পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়......


আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২০ পদকপ্রাপ্ত ৬ বাংলাদেশি
দেশজুড়ে নানা নেতিবাচক সংবাদের মধ্যে ইতিবাচক সংবাদ বাংলাদেশের তরুণরা এবার ৬১তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে একটি রৌপ্য পদক এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে । এবারের অংশগ্রহণকারী ১৬০টি দেশের মধ্যে ৩৮তম স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ যা দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থান । প্রথমবারের মতো প্রতিটি সদস্যের পদকপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের অলিম্পিয়াড । যা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল অর্জন । এছাড়াও এবছর ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ ।

মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতাগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয় । বাংলাদেশ ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় যার প্রচলন হয়েছিল ১৯৫৯ সালে । আন্তর্জাতিক কোনো অলম্পিয়াডে এটাই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ । এরপর ২০০৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় যার প্রচলন হয়েছে ১৯৮৯ সালে এবং ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় প্রচলন হয়েছিল আরো ২৬ বছর আগে । তারপর থেকে আরো কিছু অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে ।

অংশগ্রহণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ নবীন হলেও বাংলাদেশের মেধাবীরা ইতিমধ্যে তাদের সক্ষমতার পরিচয় বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে । গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের পরের বছরই পদক পেয়েছে বাংলাদেশ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় । এরপর ধারাবাহিকভাবে ভালো করে আসছে বাংলাদেশ এবং ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক অর্জন করে । এখন পর্যন্ত গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ১টি স্বর্ণ, ১২টি রৌপ্য এবং ২৮টি ব্রোঞ্জ পদক ।

আবার ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে ২টি রৌপ্য এবং ১৬টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে বাংলাদেশ । এমনকি ২০১২ সালের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বৃষ্টি শিকদার নির্বাচিত হয় শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে । যা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের বিষয় । পাশাপাশি জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডেও নিয়মিত পদক অর্জন করে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বিশ্ব অনন্য নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ।

বর্তমানে দেশের প্রধান দুইটি মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা গণিত অলিম্পিয়াড এবং ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড । ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় সারাদেশে অঞ্চলভিত্তিক সাড়ম্বরে গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় । আবার বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড । এই প্রতিযোগিতাগুলো আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ।

আমাদের তরুণ সমাজকে বখে যাওয়ার পরিবর্তে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে এবং সুস্থ-সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সরকারের উচিত হবে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতাগুলোতে আরো বেশি পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া । এতে করে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল হবে তেমনি মেধার চর্চায় মস্তিষ্ক এবং মনন শানিত হবে তরুণ সমাজের ।

লেখক:
মোঃ জাহিদ হাসান
মোঃ জাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.