আপনি কি হতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?


USA president
আসন্ন নভেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন। সেই নির্বাচনের জোয়ারে যেন ভাসছে গোটা মার্কিন মুলুক শুধু মার্কিন মুলুক বললে ভুল হবে গোটা বিশ্ব। বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে পক্ষে-বিপক্ষে।প্রার্থীরা একে অপরকে হ্যারেস খাওয়ানোর সর্বশেষ সুযোগটুকু প্রয়োগ করছে বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে। বিশ্বের বাঘা বাঘা সব জার্নাল, নিউজ পোর্টাল এবং অনুসন্ধানী সাময়িকীগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে কে হতে যাচ্ছে আগামী দিনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কান্ডারী তথা বিশ্বমোড়ল রাষ্ট্রের প্রধান ? কিছুটা উগ্র, খ্যাপাটে ট্রাম্প নাকি  কিছুটা লিবারেল বাইডেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট!!!
শুনলেই যেন কেমন একটি গর্জিয়াস গর্জিয়াস ভাব আসে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির প্রেসিডেন্ট গর্জিয়াস গর্জিয়াস ভাব তো আসবেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিয়ে আমাদের মনের মধ্যে অনেক কিউরিয়াস প্রশ্ন উকি দেয় বিভিন্ন সময়ে । যেমন: আব্রাহাম লিংকনের বাবা তো জুতো সেলাই এর কাজ করতেন তার পরেও তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন । তো তাহলে কি যে কেউ ইচ্ছা করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারে? ইভেন আমিও কি পারি? বারাক ওবামার বাবা তো একজন কেনিয়ান ছিলেন। তিনি কিভাবে প্রেসিডেন্ট হলেন? ট্রাম্পের নামটা তো আগে কখনো শুনিনি কেমনে হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলেন? হিলারি ক্লিনটন জনগণের ভোটে জিতে গেছে কিন্তু প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ।এটা আবার কেমন নিয়ম? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প "ইলেক্টোরাল কলেজে" জিতে গেছে, তাই প্রেসিডেন্ট হয়েছে। সেটা আবার কি জিনিস? এমন সব আশ্চর্যজনক প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে এই লেখাটি সাজানো হয়েছে।

কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারবে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত দেয়া আছে। শর্ত তিনটি হচ্ছে:
১.জন্মগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। এক্ষেত্রে যদি কোন মার্কিন দম্পতি বাহিরে সফরে থাকাকালে কোন সন্তান জন্মদান করেন তাহলেও সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্মগত নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন ।
২.৩৫ বছর বয়স পূর্ণ হতে হবে।
৩.একটানা ১৩ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে।
এসকল শর্ত পূরণ করলে যে কোনো কেউ চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।

এই কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামার বাবা কেনিয়ান হওয়ার পরেও যেহেতু তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এজন্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। আব্রাহাম লিংকন জন্মগতভাবে অনেক নিচু(সমাজের চোখে) শ্রেণীতে জন্মগ্রহণ করার পরেও প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকার পরেও উক্ত শর্ত পূরণ করার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। উক্ত শর্তগুলো পুরণ করে থাকেন আপনিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন যদি মার্কিন জনগণ চায়।

us election 2020

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি কি?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত হয় না। এর পরিবর্তে তারা "ইলেকট্রল কলেজ" নামক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে "নির্বাচক" দ্বারা নির্বাচিত হন। মার্কিন রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি পাঁচটি ধাপে একীভূত করা যেতে পারে -

প্রথম পদক্ষেপ: প্রাথমিক নির্বাচন ও ককাস(রাজ্যগুলিতে পার্টি স্তর নির্বাচন)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক যারা প্রেসিডেন্ট হতে চান এরকম একই রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী অর্থাৎ যারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট কমন ধারাতে পরিচালিত করতে চায় তারা সকলে একটি নির্দিষ্ট দলের মনোনয়ন পাওয়া জন্য প্রতিযোগিতায় নামে ।তাদের মধ্য থেকে কাকে ওই নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার জন্য নির্বাচিত করা হবে এটি ঠিক করা হয় প্রাথমিক নির্বাচনের মাধ্যমে এবং ককাস এর মাধ্যমে । এই কারণে বলা যায় প্রাথমিক নির্বাচন একটি দলের আভ্যন্তরীণ নির্বাচন যার মাধ্যমে প্রত্যেকটি দল নির্দিষ্ট করে দেয় যে কে হবে সে দলের পক্ষ হতে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী।

এটি যেন দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার বিষয় যে কে হবে দলের পক্ষ হতে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রদেশ(স্টেট) এর সংখ্যা 50 টি। তার মধ্যে 34 টি স্টেট এ প্রাইমারি নির্বাচন করার মাধ্যমে দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী নির্বাচিত করা হয়। মার্কিন সিস্টেমে বিভিন্ন ধরণের প্রাইমারি রয়েছে যেমন: ক্লোজড প্রাইমারি, সেমি-ক্লোজড প্রাইমারী, ওপেন প্রাইমারি এবং সেমি-ওপেন প্রাথমিক ইত্যাদি।

বাকি ১৬ টি স্টেটে ককাস এর মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। তো এখন প্রশ্ন ককাস আসলে কী জিনিস?

ককাস: ককাস একটি স্থানীয় সভা যেখানে কোনো শহর বা কাউন্টিতে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত সদস্যরা তাদের পছন্দের দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য এবং দলের অন্যান্য কাজ পরিচালনার জন্য জড়ো হন। জাতীয় দলীয় সম্মেলনে প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য প্রাথমিক নির্বাচনের একটি বিকল্প ককাস।

দ্বিতীয় ধাপ: জাতীয় সম্মেলন
জাতীয় সম্মেলন মার্কিন নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ । এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "LOWA" স্টেটে আয়োজন করা হয়ে থাকে। যে সম্মেলনে প্রত্যেক নির্দিষ্ট পার্টির হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব (সাবেক প্রেসিডেন্ট, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ,সাবেক পার্টি প্রধান) উপস্থিত থাকেন এবং ফর্মালি ঘোষণা করেন কে হচ্ছেন তাদের দলের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী। এখানে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রত্যেক দল আলাদা আলাদা জাতীয় সম্মেলন করে থাকে। 

জাতীয় সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর উক্ত প্রার্থী তার নিজের রানিমেট ভাইস প্রেসিডেন্ট এর নাম ঘোষণা করেন।

কিন্তু একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে এখান থেকে মাত্র দুইটি দল মূল নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার জন্য মাঠে থাকবে বাকি সবগুলো দল প্রধান দুইটি দলের পক্ষে ভাগ হয়ে যাবে তাদের নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী কোয়ালিশন করার মাধ্যমে। তাহলে মূল নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার জন্য মাঠে থাকলো দুই প্রধান দল।

তৃতীয় ধাপ: নির্বাচনী প্রচার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার। দ্বিতীয় ধাপে যখন উভয় দলের পক্ষ থেকে ফর্মালি প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী কে নির্বাচিত করা হয় তখন উভয় দল তাদের নিজেদের আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে সকলে একত্র হয়ে ওই নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সাপোর্ট দেন এবং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র মিলে তার পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকেন। নির্বাচনী প্রচারণার আরেকটি অংশ হচ্ছে উভয় দলের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে বিতর্ক আয়োজন করা । সেখানে তারা পরস্পরকে বিভিন্ন আঙ্গিকে হ্যারেজ খাওয়ানোর চেষ্টা করে থাকে তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী।

Donald Trump and Joe Biden in US election 2020

চতুর্থ ধাপঃ: সাধারণ নির্বাচন
এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্য অনুসারে নির্বাচনী বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম মানডের ইমিডিয়েট টুয়েসডেতে অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে যেমন ৩৫০ টি সংসদীয় আসনে প্রত্যেক দল তাদের নির্দিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ঠিক তেমনিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ৫৩৮ টি ইলেক্টরাল কলেজ আছে। আপনি বলতে পারেন এক একটি ইলেক্টোরাল কলেজ এক একটি ইলেকশন এরিয়া । আর যিনি উক্ত এরিয়ায় নির্বাচিত হন তাকে মূলত "ইলেক্টর" হিসাবে গণ্য করা হয় যেমন আমাদের সংসদীয় আসন এবং এমপি।

ইলেকট্রল কলেজের সংখ্যা ৫৩৮ টি হওয়ার কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ দুই কক্ষ বিশিষ্ট। সিনেট (উচ্চকক্ষ) যার সদস্য 100 জন এবং হাউস ওফ রিপ্রেজেন্টেটিভ( নিন্মকক্ষ)তার সদস্য 435 জন । দুইটা মিলে(১০০+৪৩৫)=৫৩৫+৩(ওয়াশিংটন ডিসির ৩ জন প্রতিনিধি)=৫৩৮। আর কোন স্টেট থেকে কতটি ইলেক্টোরাল কলেজ হবে এটি নির্ধারিত হবে ওই স্টেট থেকে কতজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করছে। এই প্রত্যেকটি ইলেকট্রল কলেজে উভয় দলই তাদের প্রতিনিধি মনোনয়ন দেন এবং ভোটারগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে এই ইলেক্টোরাল কলেজগুলোতে ইলেকক্টর নির্বাচিত করেন। এখানে ভোটারগণ নির্দিষ্ট পার্টিকে ভোট দেয়ার মাধ্যমে সে যেন তার নিজের দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী কে ভোট প্রদান করছে এই হিসেবে গণ্য হয়। এটাই হচ্ছে জনগণের ভোট যেটার মাধ্যমে "ইলেক্টর" নির্বাচিত হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো বাকি ।

এর মাধ্যমে মূলত পপুলার ভোট শেষ হয় এবং ভোটাররা নিজ দলের পক্ষে ইলেক্টরকে  নির্বাচিত করেন। আর এর মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হয় ।

পঞ্চম ধাপঃ: নির্বাচনী কলেজ
পঞ্চম ধাপ হচ্ছে  ইলেক্টোরাল কলেজ পর্ব অর্থাৎ চূড়ান্ত নির্ধারনী পর্ব। এটি ডিসেম্বর মাসে হয়ে থাকে। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ইলেক্টরগণ সাধারণত (optional not mandatory) তাদের নির্দিষ্ট পার্টির(যে পার্টি থেকে সে ইলেক্টরাল কলেজ জিতেছিল) প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী কে তার মূল্যবান ভোট প্রদান করেন।

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, মার্কিন নির্বাচনের একটি মিরাক্কেল বিষয় হচ্ছে,ঐ যে ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্যরা যারা নির্দিষ্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা কিন্তু বাধ্য নয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তার নির্দিষ্ট পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট প্রদান করার জন্য। অর্থাৎ সে যে পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছে ওই পার্টির প্রেসিডেন্ট কে ভোট দেয়ার জন্য সে বাধ্য নয় এবং সাংবিধানিকভাবে তার উপরে কোন একাউন্টিবিলিটি নাই। যদি সে চায় সে যে পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছে তার বিপরীত পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী কে ভোট প্রদান করবে তাহলে সেটি সে পারবে ।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, হিলারি ক্লিনটন ম্যারিল্যান্ডে তার নিজের দলের জন্য একজনকে মনোনয়ন দিলেন এবং সে জিতেও গেল। কিন্তু যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় আসলো তখন সে তার নিজের ভোট দিল ডোনাল ট্রাম্প কে।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্যগণ তাদের ট্রাস্ট  অনুসারে তাদের নির্দিষ্ট পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী কে ভোট প্রদান করেন । কিন্তু তিনি বাধ্য নন তাকে ভোট প্রদান করতে। তিনি চাইলে বিপরীত পার্টিকে ভোট প্রদান করতে পারেন। এরপর যে প্রার্থী উল্লেখিত ৫৩৮ টি ইলেকট্রল কলেজের মধ্যে  ২৭০ টি ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট অর্জন করতে পারেন তিনি মার্কিন মুলুকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।

মার্কিন নির্বাচনে আরেকটি মিরাক্কেল বিষয় হচ্ছে এখানে একটি টার্ম আছে উইনার টেক অল। অর্থাৎ এই ইলেকট্রল কলেজের ভোট পাওয়ার সময় যদি কোন প্রার্থী কোন স্টেটের মোট ইলেক্টোরাল কলেজ বিবেচনায় জিতে যায় তাহলে ধরে নেয়া হবে যে সে উক্ত স্টেট এর সমস্ত ইলেক্টোরাল ভোট গুলো পেয়েছে(তবে মাইনি এবং নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্য এই তালিকার অংশ নয় )।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল কলেজ ক্যালিফর্নিয়া স্টেটে ৫৫ টি । তো এই ৫৫ টির মধ্যে কোন প্রার্থী যদি ৩০টি ইলেকট্রল কলেজ পায় আর অন্য জন বাকী ২৫ টি ইলেকট্রল কলেজ পায় তবে ধরে নেওয়া হবে যে যিনি ৩০ টি  ইলেক্টোরাল কলেজ পেয়েছেন তিনি পুরা ৫৫টি ইলেকট্রল কলেজে জয় পেয়েছেন । এটাই হচ্ছে উইনার টেক অল অর্থাৎ বিজয়ী ব্যক্তি সবগুলো পেয়েছেন বলে গণ্য হবে ।

আপনি এটা ভাবতে পারেন না যে প্রার্থী সাধারণ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি প্রেসিডেন্ট হবেন। কারণ মূলত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় ডিসেম্বর মাসের ইলেক্টরাল কলেজ এর ভোটের মাধ্যমে নভেম্বর মাসের সাধারণ নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নয়। যেটি হয়েছিল হিলারি ক্লিনটনের ক্ষেত্রে কারণ তিনি নভেম্বর মাসের সাধারণ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন কিন্তু ডিসেম্বর মাসে ইলেক্টরদের ভোটে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

ইউএস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের  স্বাভাবিক সময় বর্তিকা

•ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে প্রাইমারি নির্বাচন এবং ককাস সম্পন্ন হয়। 
•সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নির্বাচনী প্রচারণা চলে।
•নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।
•ডিসেম্বর মাসের ১৪তারিখে ইলেকটরগণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার জন্য ভোট প্রদান করেন।
•মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তার পরবর্তী বছর ৫ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করে এবং ওই একই বছরের ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বার্তা

এখনো পর্যন্ত বারাক ওবামার সাবেক রানিং ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডেমোক্রেটিক দল থেকে  মনোনয়ন পেয়েছেন এবং তিনি সাবেক ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমোলা হ্যারিসকে তার রানিং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন । অন্যদিকে রিপাবলিকান দল থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনয়ন পেয়েছেন। আগামী নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ অর্থাৎ নভেম্বর মাসের প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখনো পর্যন্ত জনমত জরিপে ডেমোক্রেট পদপ্রার্থী জো বাইডেন এগিয়ে আছেন।

এখন অপেক্ষার পালা যে ২০১৬ প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনের মতো সকল সমীকরণ উল্টিয়ে ডেমোক্রাটদের বুড়ো আঙ্গুল দেখানো এবং ট্রাম্পের মিরাক্কেলিয়াস বিজয় অথবা জো বাইডেনের ক্যারিশমা।

লেখক:
মূসা কলিমুল্লাহ
মূসা কলিমুল্লাহ
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.