অটো পাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত!


অটো পাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত!
গত কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রনালয় ঘোষনা দিয়েছে যে, কোভিড-১৯ এর কারনে এই বছর এইচ.এস.সি পরীক্ষা হবে না। বিগত এস.এস.সি ও জে.এস.সি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ফল ঘোষণা করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে নেওয়া হবে সেটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে।এইচ.এস.সি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। সেটা ব্যাপারে, সময়ের প্রয়োজনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকার বাধ্য হয়েছে।তবে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের নিয়ে তেমন কোন সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করলেও পরীক্ষাগুলো দিতে পারছে না। আবার, শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকের করোনার পূর্বে ক্লাস শেষ হয়েছে,কারো দুই একটি পরীক্ষা বাদ রয়েছে।

অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা এক সেমিস্টারের ক্লাস শেষ করে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করেছে। হয়তো ক্যাম্পাস খুললে দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা এক সাথে অথবা ধাপে ধাপে দিতে পারবে।এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়তো কিছুটা ক্ষতি পোষানো সম্ভব। কিন্তু,যারা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে শেষ বর্ষে ছিল, তাদের শুধুমাত্র কয়েকটি পরীক্ষা বাদ থাকার কারনে, সার্টিফিকেট নিতে পারছে না। ফলে, তারা চাকরী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। তাদের জুনিয়র ব্যাচদের ঠিকই ক্লাস হচ্ছে, ক্যাম্পাস খুললে পরীক্ষা দিতে পারবে। তাহলে, সিনিয়র ব্যাচ ও জুনিয়র ব্যাচগুলোর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকবে না।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা না হলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হচ্ছে! তাহলে, আমরা কি ধরনের অসংগতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। আবার, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সেশনজটের কালিমা তো রয়েছে! অনেকের চার বছরের স্নাতক শেষ করতে লাগছে ছয়-সাত বছর। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা বেড়ে যাচ্ছে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এটা এক পর্যায়ে আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যাবে, কেননা,মধ্যবিত্ত পরিবারের আশা থাকে সন্তানকে নিয়ে।

আমাদের দেশে এখন সব কিছুতে আন্দোলন শব্দটা ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। এমনও হতে পারে এই নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যেতে পারে, সেক্ষত্রে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। যেহেতু এইচ.এস.সির মত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফল যদি পূর্ববর্তী দুইটি পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরদের বেলায় এটা আরো সহজ হবে,কেননা তাদের পূর্ববর্তী পরীক্ষার সকল ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আছে। এই পদ্ধতির বাইরে যদি চিন্তা করা যায় তাহলে, যেকোনভাবে পরীক্ষাগুলো নিয়ে পিছিয়ে পরীক্ষা সেমিস্টারের রেজাল্ট ঘোষণা করা আশু প্রয়োজন। কারন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সেশনজোট শব্দটি জড়িয়ে আছে। আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তো বৈষম্য আছেই। সব কিছু মিলে এদেশের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা কাজ করছে। সেটা সামগ্রিক ভাবে উদ্বেগের কারন।

তাই, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে না হলে আমরা একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ক্রমেই এগিয়ে যাবো যেখানে থাকবে শুধুই হতাশা আর না পাওয়ার গল্প।

লেখকঃ
মোঃ শাকিল হোসেন
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.