মুখোরিত ক্যাম্পাসের বর্ণিল সাজ দেখা হলো না


মুখোরিত ক্যাম্পাসের বর্ণিল সাজ দেখা হলো না

২০ অক্টোবর; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। যদিও প্রাচীন  এই বিদ্যাপীঠ এর যাত্রা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শুরু হয়নি।  কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান আজ বিশ্ববিদ্যালয়।  ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে পাশকৃত ২৮ নং আইনবলে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় প্রাণের এই বিদ্যাপীঠ । 

নানা প্রতিকূলতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি অতি অল্প সময়ে ভর্তিচ্ছুদের পছন্দের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।  প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করে; মহাসমারোহে পালিত হয় দিনটি।  এইবারো তার ব্যতিক্রম নয় । তবে এইবারের পরিস্থিতি অনুকূল নয়।  করোনা ভাইরাসের প্রকোপে অনেকদিন ধরে বন্ধ আছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।  এজন্য উৎসাহে কমতি না থাকলেও তা বাস্তবে রূপদানে ব্যাঘাত ঘটেছে। করোনা ভাইরাসের কারনে সীমিত আকারে পালিত হবে দিবসটি।

১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিলো জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, বেলুন উড়ানোসহ ভার্চুয়াল  আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবকিছুই পালিত হয়েছে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে; স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে । তবে এবছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো একমাত্র ছাত্রী হল "বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল " এর শুভ উদ্বোধন। এ যেনো সকল অপ্রাপ্তিকে হার মানায়। 

গতবছর এ মাসেই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিলাম জবির সাথে।  আজও মনে পড়ে সেই স্মৃতি। বেড়ে ওঠা ঢাকাতে হলেও আগে কখনো পুরান ঢাকার জবি এরিয়ায় যাওয়া হয়নি আমার। ভর্তি পরীক্ষার দিনই প্রথম দেখা। আমি পরীক্ষা দিয়েছিলাম বিকেলের শিফটে।  মিরপুর থেকে সদরঘাট যাওয়ার অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয় তবে এত বিড়ম্বনার পথ পেরিয়ে যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌছাই । সিনিয়রদের উপকারি মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছিলো । তারা নিরলসভাবে  সকলকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলো।  অচেনা মানুষদের প্রতি তাদের এমন ব্যবহার প্রশংসার দাবি রাখে।

জানুয়ারি ১ থেকে মার্চ ১৫ এই ছিল ছোট ক্যাম্পাস জীবনের অভিজ্ঞতা। সকাল ৭ টায় লাল বাসে উঠার মাধ্যমে দিনের শুরু শেষ হতো বিকেল ৫/৬ টায় বাসায় ফেরার মাধ্যমে।  একেকটি লাল বাস যেন একেকটি গল্প রচনা করে। এ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। আজ স্মৃতির পাতায় সব আলোরিত হচ্ছে। 

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা । কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রকোপে তা পরিপূর্ণতা লাভ করেনি । মুখোরিত ক্যাম্পাসের বর্ণিল সাজ এবার আর দেখা সম্ভব হল না । তবে আশা রাখি আগামী বছর এদিনে অাবারো মিলিত হবো সকলে, প্রানবন্ত হবে ক্যাম্পাস, উচ্চারিত হবে জয়ধ্বনি।

লেখক:
নাজিয়া আফরিন
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.