কেমন আছে দেশের নারীরা?


কেমন আছে দেশের নারীরা?
চারদিকে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন চলছে । এর মাঝেই 'বিশ্ব কন্যা শিশু দিবস' কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেলো । কেমন আছে দেশের নারীরা? কেমন আছে দেশের কন্যা শিশুরা? সমাজ কি দিতে পেরেছে তাদের নিরাপত্তা? সমাজ কি রক্ষা করতে পারছে তাদের সম্মান? এসব প্রশ্নের উত্তর খুজতে নর্থ সাউথের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ৫ নারী শিক্ষার্থীর ভাবনা নিয়েছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদুল হক সাদ

ইশরাত ইন্তিসার সুপ্তি
ইশরাত ইন্তিসার সুপ্তি
করোনা ভাইরাস বা অতিমারীর কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবার আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন হয়তো সেভাবে সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবুও, সব কন্যা শিশুদের জন্য আমাদের দায়িত্ব, ভালোবাসা এবং তাদের সঠিক ও নিরাপদ ভাবে বেড়ে উঠার প্রত্যাশা রাখি। সমাজ ও রাষ্ট্র যেনো ছেলে, মেয়ে, নির্বিশেষে সমান শিক্ষা, নিরাপত্তা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আত্ন নিভর্রশীলতার সুযোগ করে দিতে পারে এই দায়িত্ব আমাদের সকলের। কন্যা শিশুদের বোঝা মনে করে বর্তমান সময়ে তাদের সমান সুযোগ যদি না দেয়া হয় তাহলে জাতিগতভাবে আমরাই পিছিয়ে থাকবো। তাই সকলের উচিত নিজের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের  সব কন্যা শিশুদের নিয়ে নতুন করে ভাবার এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়া।
ইশরাত ইন্তিসার সুপ্তি
ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সস

তামরিন আফরোজ জিলানী
তামরিন আফরোজ জিলানী
এই সমাজে মেয়ে হয়ে জন্মানো মানে প্রতি ধাপে ধাপে প্রতিবন্ধকতা । কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা ইতিবাচক ভাবে নিলেই বিভিন্ন রং এর মত কাজ করে সাদাকালো জীবনে । আমি কন্যা, আমি নারী এটা আমার গর্ব এবং সকল ক্ষেত্রে শুধু নারী হিসেবে বিবেচিত না হয়ে মানুষ হিসেবে বিবেচিত হই । এই নারীবাদী চেতনার উন্মেষ শুধমাত্র শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে দিতে হবে । বিশ্ব কন্যা শিশু দিবসে একটাই কামনা, মেয়ে হিসেবে সমাজে যে চিরায়িত নিয়ম, আচার, কাজ বেঁধে দিয়েছে তা যেন শুধু মেয়েদের কাজ না হয়ে; হয় সকলের কাজ। 
তামরিন আফরোজ জিলানী 
ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিটেকচার 

সানদ্রা হোসাইন
সানদ্রা হোসাইন
দু'হাজার বিশ সালে এসেও কন্যা শিশুদের দমিয়ে রাখা হয় এখনো নানাভাবে । তাদের যোগ্যতাকে ছোট করা হয়, সাথে সামাজিক ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় তাদের সুপ্ত প্রতিভার উপর । প্রতিটি পিতা মাতার উচিত ছোটবেলা থেকে তাদের কন্যা শিশুর মনে সাহসের দূর্গ গড়ে তোলা, যেনো তারা সমাজ রাষ্ট্রের সাথে সাহসিকতার সাথে প্রতিটি ধাপে মুখোমুখি হতে পারে । মনে রাখতে হবে সর্বদা, “মনের জোড় হারলো, দৈহিক জোড় ছাড়লো।"
সানদ্রা হোসাইন
ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস 

আরিসা এনায়েত
আরিসা এনায়েত
অন্যান্য অনেক সুপরিচিত দিবস থাকলেও কন্যা শিশু দিবস খুব একটা আমাদের দেশে এখনো পরিচিতি লাভ করতে পারেনি । কন্যা শিশু তাচ্ছিল্যের স্বীকার বহুকাল আগে থেকেই, যার প্রেতাত্মা এখনো সমাজ রাষ্ট্র থেকে দূর হয়নি । এখনো গ্রামে-গঞ্জে পুত্র শিশু, কন্যা শিশুর তুলনায় অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হয়। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার থেকে শুরুর করে বহু গুরত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নারীদের বিচরণ । আমরা চা,ই একটি সমাজ যেখানে নারীদেরকে দেওয়া হবে যাথাযথ সম্মান । সমাজে নারী-পুরুষ বৈষম্যহীনভাবে কাজ করলেই আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়া সম্ভব ।
আরিসা এনায়েত
ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সস 

ফারিয়া রবি
ফারিয়া রবি
‘আমরা নারী, আমরাও পারি‘
নারী আজ কোন অংশে পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নেই বরং কাধে কাধ মিলিয়ে প্রতি পদক্ষেপে একসাথে চলছে। কিন্তু, আজও তাকে ভোগের বস্তু, লোভের বস্তু মনে করে আমাদের সমাজের কিছু মানুষরূপী অমানুষ, ফলাফল ধর্ষণ। নিজ গৃহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চলার পথ কোথায় নারী নিরাপদ? যে নারী জাতির পদতলে জান্নাত, সেই নারী আজ কিছু পুরুষ নামক নরপিশাচের লালসার স্বীকার। যে বয়সে দূরন্তপনার স্মৃতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা সে বয়সে পিচাশের কালো ছায়ায় স্মৃতি নিয়ে বড় হতে হয়। তাই, বিশ্ব কন্যা শিশু দিবসে এই প্রত্যাশা, নারীকে বস্তু নয় বরং মানুষ হিসেবে নির্ভয়ে বাঁচতে দিক আমাদের সমাজ, সঠিক সম্মান দিক সমাজ । আর আমরা প্রতিটি নারী যেন দূর্গার মতো অসুর নধ করার শক্তি নিয়ে বড় হতে পারি । 
ফারিয়া রবি
ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সস

লেখক:
সাজিদুল হক সাদ
সাজিদুল হক সাদ
শিক্ষার্থী, ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সস
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.