আনসাং হিরোরা নিঃশব্দে দেশ ছেড়ে চলে যায়


আন সাং হিরো ডাক্তাররা নিঃশব্দে দেশ ছেড়ে চলে যায়

বছর দুয়েক হলো এমবিবিএস পাশ করেছে ছেলেটা। জেনারেল সার্জারীতে এফসিপিএস ফার্স্ট পার্ট কমপ্লিট। এখন ট্রেনিং করছে।

হাসপাতালে পারফোরেশনের এক রুগী এসেছে। জরুরী ভিত্তিতে অপারেশনের জন্য রুগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হলো।

অপারেশনের মাঝ পথ। ছেলেটার মোবাইল বেজেই চলেছে। কিন্তু ধরতে পারছে না। এক পর্যায়ে সিস্টারকে বললো ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতে। ফোনে কথা বলার পরেই ছেলেটা কাজের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেললো।

এক পর্যায়ে মেইন সার্জনকে বললো, 'স্যার, একটা কথা ছিলো।'

সার্জন ঝাড়ি মেরে বললো, বি কেয়ারফুল। এখন কথা বলার টাইম নাই। রুগী খুব ক্রিটিকাল।

ছেলেটা আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ অপারেশন শেষ করে বাড়ি গেলো।

বাড়িতে গেলে ছেলেরটার বোন ভাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো, সেই এলি, আর ১০মিনিট আগে এলিনা কেনো দাদা? মা বার বার বলছিলো, আমার আবির কোথায়?
.
.
এটা এক সত্যি ঘটনা।

আবির আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো, 'ভাইয়া, কিসের ডাক্তার আমি? মায়ের মৃত্যুর সময়ও পাশে থাকতে পারলাম না। আমি কি ভাবে নিজেকে ক্ষমা করবো?'
.
.
এখন সবাই আবিরের প্রশংসা করবেন। আবিরের মতো ডাক্তারই আমাদের দরকার। ইশ্ .... সব ডাক্তার কেনো আবিরের মতো হয় না?
.
.
এই আবিরই কিছুদিন পর রুগীর লোকের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলো। তার দোষ ছিলো সে একজন হার্ট এ্যাটাকের রুগীকে বাঁচাতে পারেনি।
.
..
এর কিছুদিন পর আবির দেশ ছেড়ে চলে গেলো। যাওয়ার সময় শুধু বলে গেলো, সেদিন আমি মস্ত বড় ভুল করেছিলাম, রুগী ফেলে মায়ের কাছে না গিয়ে।

-আবিররা হচ্ছে আমাদের দেশের আন সাং হিরো। এদেরকে আমরা ধরে রাখতে জানি না। এই হিরোরা নিঃশব্দে দেশ ছেড়ে চলে যায়।

লেখক:
ডা. শামীম রেজা

No comments

Powered by Blogger.