অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা: শিক্ষায় বৈষম্যের নতুন পথ


অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা:শিক্ষায় বৈষম্যের নতুন পথ

পাবলিক বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে অসুস্থ ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে ক্রমবর্ধমান করার জন্য ইউজিসি কর্তৃক অনলাইন ভিত্তিক যে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো সেটা শিক্ষাব্যবস্থার গলদ, দুর্নীতি ও বৈষম্যকে প্রতীয়মান করে । উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মতো একটা পাবলিক পরীক্ষাকে উপেক্ষা করে বিগত দুটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ফলাফল ঘোষণা আর অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্রমাবনতির চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে একটা জাতিকে প্রচ্ছন্ন অন্ধকারের সুড়ঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার শেষ চেষ্টা ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতির সময় একজন শিক্ষার্থী কতটা পরিশ্রম করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না । কিন্তু আজকের এ সিদ্ধান্ত একজন শিক্ষার্থীর সামনে হাজারটা অনৈতিক পথ খোলা রেখে দিলো । যার দরুন একজন শিক্ষার্থী তার মেধাকে মূল্যায়নের সুযোগ পাবে না।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা না হওয়ার কারনে এইবার ১৩ লাখ ৬৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী সবাই পাশ করবে । আর এই বিশাল সংখ্যাটা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে । করোনাকালীন সময়ে যে ইউজিসি ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাসকে নিশ্চিত করতে পারেনি তখন এই বিশাল সংখ্যার ডিভাইস, উচ্চগতিসম্পন্ন ডাটা কি প্রদান করতে পাবে? মফস্বলি ছেলেমেয়েরা যারা এসব থেকে অনেক দূরে তাদের কি হবে?এসব নিশ্চায়ন যদি না করতে পারে তাহলে শিক্ষার্থীদের একটা বিশাল অংশ উচ্চশিক্ষার সম্মুখেই বাঁধাগ্রস্ত হবে । উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা না নেওয়ার কারনে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন গড়পড়তা হয়েছে । যে কারণে শিক্ষার্থীদের উপর একটা বৈষম্যের কলকাঠি নাড়িয়েছে অনলাইন ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা । যেখানে নৈতিক স্খলনের চিত্র প্রবহমান সেটা কতটা জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে তা প্রশ্ন রাখে ।

শিক্ষানীতির আওতায় শিক্ষার মানোন্নয়ন করার জন্য ঝরে পরা রোধ, আধুনিকায়ন, বৈষম্যহীন করার জন্য যতবার যত নীতিমালা প্রনয়ণ করা হয়েছে ততবারই ব্যর্থ হয়ে শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠেছে বৈষম্যের শিকার, অর্থলিপ্সু ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান । সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে শিক্ষার এই মানোন্নয়ন নিশ্চিতকরণের কথা বলা হয়েছে । কিন্তু শিক্ষানীতির এই নতুন যে বৈষম্যের পথ খোলা হলো তা নৈতিক স্খলনের একটা পথ রেখে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরাকে ত্বরান্বিত করবে -যেটা সংবিধান লঙ্ঘন ।

নীতিনির্ধারকদের এই অব্যবস্হাপনা শিক্ষার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে জটিলতার সৃষ্টি করবে । শিক্ষার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে আসা উচিত । নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের যাঁতাকল থেকে বেড়িয়ে এসে সুপরিকল্পনা, হয়রানিবিহীন, শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রনয়ণ ও প্রয়োগ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ।

লেখক:
সফিউল আলম জিন্দা
শিক্ষার্থী, ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.