বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত হিসেবে আগমন করেছিলেন নূরনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা(সঃ)


বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত হিসেবে আগমন করেছিলেন নূরনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা(সঃ) হোসাইন মোহাম্মদ ফয়সাল

বাংলা কবির ভাষায় বলতে গেলে, ‘তুমি যে নুরের রবি/নিখিলের ধ্যানের ছবি/তুমি না এলে দুনিয়ায়/আঁধারে ডুবিত সবই।’

উর্দূ কবির ভাষায় বলতে গেলে, "জামী ম্যায়লি নাহি হোতি জামান ম্যায়লা নাহি হোতা, মুহাম্মদ (সঃ) কে গোলামো কি কাফান ম্যায়লা নাহি হোতা"!

ইংরেজিতে বলতে গেলে,
“Muhammad: The central human figure of Islam, regarded by Muslims as the messenger and last prophet of God. Active as a social reformer, diplomat, merchant, philosopher, orator, legislator, and military leader".
"Muhammad, who originated from humble ancestors, established one of the greatest religions of the world, spread it and he became a very influential political leader. Today, thirteen centuries later after his death the power and extend of his influence continues".

বিশ্ববাসী যখন নানান সমস্যায় জর্জরিত ঠিক তখনই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ রবিউল সোমবার সুবহে সাদিকে আরবের বিখ্যাত কোরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। মহান আল্লাহ তা'য়ালা  নূর নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) বিশ্ব মানবতার মুক্তিরদূত ও সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর অকল্পনীয় সহনশীলতা, ধৈর্য্য শক্তি, চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, চলাফেরা, আদব-কায়দা। শিষ্টাচার, সুমধুর ব্যতিক্রমী ব্যবহার, নিষ্ঠাবান সংগ্রামী জীবন, তার পর্যবেক্ষণ পারদর্শিতা, বিচক্ষণতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, প্রখর বুদ্ধিমত্তা, নারী অধিকার, মানবাধিকার, অসামপ্রদায়িক রাজনৈতিক মনোভাব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, সকল ধর্মের মানুষের প্রতি মানবাধিকার ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে এবং সেগুলোর চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করে অমুসলিম মনীষীরা মহানবী (সা:)-এর প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন। এসব বিশ্বজোড়া খ্যাতনামা মনীষীরা সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন তিনিই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনিই জগৎ গুরু বা বিশ্বনবী (সঃ)। বিশেষ করে বিশ্বের সকল ধর্মের মানুষের প্রতি তার নিদারুণ সমত্ববোধ ভালোবাসা সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। মানবপ্রেমের এমন নজির সহসাই মেলে না বলেও মন্তব্য করেছেন। মানব জাতিকে সঠিক পথের দিশা দিতে যুগে যুগে এ ধরাধামে অসংখ্য মহামানবের আগমন ঘটেছে। তারা মহান আল্লাহর বাণী লাভে ধন্য হয়ে মানুষকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করার প্রয়াস পেয়েছেন। এসব মহা মানব আল্লাহ তা‘আলার একান্ত বান্দারূপে রিসালাত লাভে ধন্য হয়েছেন।

রিসালাত কোনো শিক্ষা, যোগ্যতা বা অর্জনযোগ্য বিষয়ের নাম নয়। দক্ষতা, মেধা বা প্রতিভা দিয়ে এটি লাভ করা যায় না। চর্চা, অধ্যবসায়, অনুশীলন ও সাধনা দ্বারা দুনিয়ার অনেক কিছু অর্জন সম্ভব হলেও নবুওয়াত ও রিসালাত অর্জন সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ তা‘আলার মনোনয়ন। মহান আল্লাহর পয়গাম মানব জাতির কাছে বহন করে আনা এবং তা প্রচার করার উদ্দেশ্যেই আল্লাহ নবী-রাসূল মনোনীত করেন। এ মর্মে কুরআনে এসেছে:
''আল্লাহ ফিরিশতার ও মানবকুল থেকে রাসূল মনোনীত করে থাকেন।’’ [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৭৫]
এ আয়াতে যে সত্যটি ফুটে উঠেছে তার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
"প্রত্যাদেশকৃত ওহী ভিন্ন তিনি মন থেকে কোনো কথা বলেন না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩-৪]
তাঁর রিসালাত ছিল পূর্ণাঙ্গ, অনন্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, সুপরিকল্পিত ও সুনিপুণ কর্মকৌশলে ভরপুর। তিনি বিশ্বের বুকে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ দা‘ঈ। বিজয়ী বীর, সফল রাষ্ট্রনায়ক, কৃতী পুরুষ, মহামনীষী, বিজ্ঞানী ও সংস্কারক হিসাবে সমাদৃত। জন্মের পূর্ব থেকেই তিনি অনন্য ও অসাধারণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।

এ পৃথিবীতে মানুষের চলার পথ রয়েছে দু’টি। একটি হলো সরল সঠিক পথ বা সিরাতুল মুস্তাকীম। অপরটি গোমরাহীর পথ। এ দু’পথের যে কোনো পথে মানুষ পরিচালিত হতে পারে। এজন্যে পরকালেও জান্নাত এবং জাহান্নাম এ দু’ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে। পবিত্র কুরআন গোটা জাতিকে মুমিন এবং কাফির দু’শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে। মুমিনগণ কিসের ভিত্তিতে জীবন চালাবেন এবং কোনোটি তাদের জীবন নির্বাহের পথ, সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাই তাঁর আগমনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে ‘‘সিরাতুল মুস্তাকীম’’-এর পথ দেখানো। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,
"নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রাসূলগণের একজন। সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।’’ [সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩-৪]
হজরত মুহাম্মদ (সা:) হলেন সর্বশেষ বিশ্বনবী। তাঁর পবিত্র পয়গম কোন বিশেষ জাতি বা ভৌগলিক পরিসীমার মধ্যে আবদ্ধ ছিলনা। তাঁর নবুওত বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের কল্যাণের জন্য প্রযোজ্য ছিল। এজন্য প্রত্যেক জাতির কবি সাহিত্যিক, রাজনিতিবিদ, ধর্মগুরু তথা পন্ডিতগণ, নবীজির (সা:) প্রশংসা গেয়েছেন, তাঁর গুণাকৃতি করেছেন, উদাত্ত অবলীলাক্রমে। তাঁর এটার প্রধান কারণ হচ্ছে হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর দ্বারা প্রচারিত সনাতন ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারণ ইসলামই হলো এর একমাত্র বিশ্বজনীন তথা বিশ্বমানবতার ইহকাল ও পরকালের মঙ্গলবার্তা। এতে কোন দ্বিধা সংকোচ নেই। সন্দেহেরও কোন অবকাশ নেই।

একদিন বৌদ্ধ ভিক্ষু আনন্দ সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “আপনার মৃত্যুর পর কে আমাদেরকে উপদেশ দেবে?”আনন্দের প্রশ্নের জবাবে সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধ বললেনঃ- “আমিই একমাত্র বুদ্ধ বা শেষ বুদ্ধ নই। যথাসময়ে আর একজন বুদ্ধ আসবেন- আমার চেয়েও তিনি পবিত্র ও অধিকতর আলোকপ্রাপ্ত…তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মমত প্রচার করবেন।” ভিক্ষু আনন্দ জিজ্ঞেস করলেনঃ  “তাঁকে আমরা কিভাবে চিনতে পারবো?” বুদ্ধ বললেনঃ “তাঁর নাম হবে মৈত্রেয়।”বৌদ্ধ ধর্মের ‘দিঘা নিকারা’ তে মুহাম্মদ (স) সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ "মানুষ যখন গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ভুলিয়া যাইবে তখন আর একজন বুদ্ধ আসবেন, তাঁহার নাম মৈত্রিয়। অর্থাত্‍ শান্তি ও করুণার বুদ্ধ।”এখানে মৈত্রেয় শব্দ দ্বারা বুঝায় শান্তি বা করুণার আধার। আর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন রাহমাতুলি্লল আলামীন অর্থাত্ বিশ্বের রহমত স্বরুপ, আশীর্বাদ স্বরুপ। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ পাক এরশাদ করলেনঃ
“আমি (আল্লাহ্) তো তোমাকে (হয়রত মুহাম্মদ সাঃ) বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ হিসাবে পাঠিয়েছি।

দার্শনিক এইচজি ওয়েলস বলেছেন :'জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে ইসলাম যে সাম্য স্থাপন করেছে তার ফলে মুসলিমদের মধ্যে একটা ঘরোয়া ভ্রাতৃত্বের উদ্ভব হয়েছে; সভ্যজগতে এ বিশ্বাস একটি বিরাট শক্তিরূপে প্রতিপন্ন হয়েছে।' একবারের ঘটনা- প্রিয়নবীর (সা.) দরবারে জনৈক ইহুদি একজন মুসলিমের বিরুদ্ধে নালিশ করল। তিনি সত্য ও ন্যায়ের খাতিরে সে ইহুদির পক্ষে রায় দিয়ে সুবিচার কায়েম করার ক্ষেত্রে এক অনুপম আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। আশ্বেকে রাসূল কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন-
পাঠাও বেহেশ্‌ত হতে পূর্ণ সাম্যের বাণী;
আর দেখিতে পারি না মানুষে মানুষে এই হীন হানাহানি।

শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থ বেদে নবী মোহাম্মদ (সঃ) সম্পর্কে যতগুলো ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে, তা আর অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থে এতটা করা হয়নি।
হিন্দু ধর্মের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায় তার "কল্কি অবতার" এবং "মোহাম্মদ সাহেব" গ্রন্থে বেদকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন,
১। “হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো মহাসূরিন্দ্রাঃ
অল্লো জ্যেষ্টং শ্রেষ্ঠং পরমং ব্রহ্মণং অল্লাম ॥
অল্লো রসূল মোহাম্মদ রকং বরস্য অল্লো অল্লাম।
আদাল্লাং বুকমেকং অল্লাবুকং লিখর্তকম।”
অর্থ: দেবতাদের রাজা আল্লাহ আদি ও সকলের বড় ইন্দ্রের গুরু। আল্লাহ পূর্ণ ব্রহ্ম, মোহাম্মদ আল্লাহর রাসূল পরম বরণীয় আল্লাহ আল্লাহ। তাঁহার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কেহ নাই। আল্লাহ অক্ষয় অব্যয় স্বয়ম্ভু।
(কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব-২৩)
২। হিন্দুধর্মের শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সংস্কারক শ্রীশ্রী বালক ব্রহ্মচারী সামবেদে শ্রীকৃষ্ণের নাম-গন্ধও নাই বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে যার নাম আছে তাঁর নাম
‘‘মদৌ বর্তিতা দেবাদ কারান্তে  প্রকৃত্তিতা ।
বৃষানাং ভক্ষয়েৎ সদা মেদা  শাস্ত্রেচ স্মৃতা। ”
যে দেবের নামের প্রথম অক্ষর ‘ম’ ও শেষ ‘দ’ এবং যিনি বৃষমাংস ভক্ষণ সর্বকালের জন্য পূর্ণ বৈধ করিবেন তিনিই হইবেন বেদানুযয়ী ঋষি”মোহাম্মদ  -এর নামের প্রথম ও শেষ অক্ষর বেদের নির্দেশ যথাক্রমে ‘ম’ ও ‘দ’ হওয়াতে তাঁকে  মান্যকরাও শাস্ত্রেরই নির্দেশ।
(কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব-২৩)।
ইত্যাদি ইত্যাদি।

মুহাম্মদের (সা.) দুনিয়ায় আবির্ভাব ঘটেছিল বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও কল্যাণের পয়গামদাতা হিসেবে। তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের রহমতস্বরূপ। মানব চরিত্রে যত প্রকারের মহৎগুণ থাকতে পারে, তাঁর সুমহান চরিত্রে সেসব গুণের পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত' (ক্বলম :৪)। তিনি এরশাদ করেন, 'বোবা (অবলা) পশুদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো' (আবু দাউদ :২১৮৫)। আল্লাহ এরশাদ করেন : 'আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি' (আম্বিয়া :১০৭)। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বোৎকৃষ্ট মহাপুরুষ আর নবীকুলের শিরোমণি। 
ব্যক্তিগত জীবনে মহানবী (সা.) বিলাসী ছিলেন না। তিনি এরশাদ করেন :'তাদের দিকে তাকাও (নিজেকে তাদের সঙ্গে তুলনা করো), যাদের অবস্থা তোমাদের চেয়েও খারাপ; তাদের দিকে তাকাও (তাদের সঙ্গে নয়), যাদের অবস্থা তোমাদের চেয়ে ভালো' (সহিহ মুসলিম :৫২৬৪)। তিনি আরবের সম্রাট হয়েও নিজ হাতে অগ্নি প্রজ্বলিত করতেন, দুগ্ধ দোহন, ঘরবাড়ি পরিস্কার, জামা সেলাই ও ধৌত করা, জুতা মেরামত, মদিনার মসজিদ নির্মাণসহ পারিবারিক ও সামাজিক সব কাজে অংশগ্রহণ করতেন স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবীর (সা.) অবদান অনন্য। আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে যুদ্ধে বিজয়ী পক্ষ পরাজিত পক্ষের মেয়েদের ধরে এনে বিয়ে করত। এ অপমান থেকে মুক্তিলাভের জন্য তারা কন্যাসন্তানকে ঘৃণা করত এবং জীবন্ত কবর দিত। এমন একটি প্রেক্ষাপটে ইসলাম কন্যাসন্তানকে স্থান দিল পিত্রালয়ে; ধন্য করল তার জন্ম ও জীবন। ইসলামই প্রথম মেয়েকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিল। বিয়েতে কনের মতামত নিয়ে পাত্রস্থ করার বিধান প্রতিষ্ঠিত হলো। বিয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবীর ঘোষণায় একদিকে যেমন বিয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে চিরদিনের জন্য নারীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়েছে এবং তাদের অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে। কোরআনের ঘোষণা : তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পোশাক আর তোমরা (স্বামীরা) তাদের পোশাক (বাকারা : ১৮৭)। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহতায়ালার এই বাণীটি কত যুগোপযোগী, কত বিজ্ঞানসম্মত, যা নারীদের পুরুষের সমমর্যাদা দান করেছে। মোহরানা ছাড়াও ইসলামে নারী পিত্রালয় এবং শ্বশুরালয় থেকে মিরাস পেয়ে থাকে। ইসলাম মাতৃত্বের অধিকারকে অধিকতর উচ্চে স্থান দিয়েছে। বিশ্বনবী ঘোষণা করেছেন : পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাদের অসন্তুষ্টিতেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি (তিরমিজি :১৮২১)।

মহানবী (সা.) বিদায় হজে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা ভোলার নয়। মুহাম্মদ (সা.) বলেন- ‘হে লোক সকল, তোমরা শোন- কোনো আরবের উপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো অনারবের উপরও আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কোনো কালোর উপর সাদার এবং সাদার উপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কেননা, সবাই আদম থেকে এবং আদম মাটি থেকে। শ্রেষ্ঠত্ব যাচাইয়ের মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া।’ তাই হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে মাইকেল হার্ট বলেন- অর্থাৎ তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ধর্মীয় ও পার্থিব উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। ধর্মকে মানব জাতির কল্যাণে প্রয়োগ করতে শিখিয়েছেন। নারীর অধিকার, শ্রমের মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় সংবিধান, যুদ্ধ কৌশল, সব কিছুই শিখিয়েছেন মহানবী (সা.)। 
রাসূল(সঃ)কে অনুসরণ করতে হলে তাকে জানতে হবে। তাকে চিনতে হবে। রাসূল(সঃ)কে জানার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে তার জীবনী পাঠ করা। জীবন গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে রাসূল (সা.)-এর পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়। কোন অবস্থায় রাসূল(সঃ) কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, কখন ধৈর্য ধারণ করেছেন, কোন পরিস্থিতিতে রাসূল (সা.) শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছেন তা অতি সহজে জানা যায়। ইসলামের সব বিধানের বাস্তব ও প্রায়োগিক চিত্র মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবন। তাই রাসূল (সা.)-এর জীবনী পাঠের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাছাড়া তার জীবনী পাঠ না করলে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ও জীবনাদর্শন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে না।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে ভালোবাসা মুমিন হওয়ার অন্যতম শর্ত। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছাড়া কেউ মুমিন হতে পারে না। রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তানাদি এবং সব মানুষ থেকে বেশি প্রিয় না হব। (বুখারি-১৬)

রাসূলের প্রতি মহব্বত, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রগাঢ় করার জন্য প্রয়োজন তাকে জানা, কেমন ছিলেন তিনি এ সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান রাখা। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। তাহলে জানা যাবে মানুষের কল্যাণের জন্য তার ত্যাগ তিতিক্ষার কথা। ফলে মানবিক চেতনা জাগ্রত হবে।

কত শত গল্প, কত শত উপন্যাস, কত শত কবিতা-ই না পড়ি আমরা। কেবল পড়া হয় না, জানা হয় না মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে। কথার ফাঁকে ফাঁকে গল্পের বাঁকে বাঁকে বলে ফেলি সক্রেটিস এই বলেছেন, শেক্সপিয়ার এটা লিখেছেন। কিন্তু বলতে পারি না প্রিয় নবী (সঃ) কী করেছেন কিংবা কী বলেছেন। হৃদয়ে ভাসে না তার জীবনের ঘটনাবলী, মানবতার কল্যাণে সম্পাদিত তাঁর কার্যবলী। তাঁকে ভালো না বাসলে ভালো কাজের প্রতি মহব্বত আসবে কী করে!

লেখক:
হোসাইন মোহাম্মদ ফয়সাল 
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ
অনার্স ১ম বর্ষ
hmfaisal8810@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.