আত্মহত্যা নয়, সমাজে টিকে থেকে সাফল্য অর্জনই সমাধান


আত্মহত্যা নয়, সমাজে টিকে থেকে সাফল্য অর্জনই সমাধান
প্রতিদিন টিভির পর্দা ও পত্রিকায় চোখে পড়ছে  আত্নহত্যার খবর গুলো । আত্নহত্যা হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ । অন্যভাবে বলতে গেলে নিজের জীবনকে নিজের হাতে পরিসমাপ্তি দেয়া। 

একটি আত্নহত্যার  পিছনে লুকিয়ে থাকে অজানা গল্প, আবেগ ও অনুভূতি  যা অপ্রকাশ্যই থেকে যায়।  মনে ভিতর অজানা প্রশ্ন, ভূল ব্যাখা, ভয় ও কুসংস্কার কাজ করে। অামি যেভাবে পৃথিবীকে দেখি অন্য কেউ দেখবেনা। তবে সুসাইড বা আত্নহত্যার যে কারন গুলো কাজ করে সেগুলো হলো-
পরিজনদের সাথে মনোমালিন্য, প্রেম-বিরহ, ইভটিজিং, পড়ালেখায় ব্যার্থতা, ব্যাবসায়ে অসাফল্য  ইত্যাদি। 

যখন কেউ আত্নহত্যা করে তখন জনগন তাকে অাত্নহত্যা বলে আবার ডাক্তার বা চিকিৎসকরা  আত্নহত্যাকে মানসিক অবসাদজনিত কারন বলে আখ্যায়িত করে থাকে। তবে আমি একজন নৃবিজ্ঞানের ছাত্র  হিসেবে মনে করি আত্নহত্যা একটি সামাজিক বিষয় বা ফেনোমেনা। একজন ব্যাক্তির আত্নহত্যার পিছনে দেশের সমাজ ব্যবস্থা ,অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। কেননা একটি অাত্নহত্যার পিছনে মাত্রারিক্ত ডিপ্রেশন থাকে।  অার এই ডিপ্রেশনই আত্নহত্যাকারীর দৈনন্দিন জীবনে বিরুপ প্রভাব ফেলে। আর সেই চাপ, বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন যখন বহন করতে পারেনা তখনই আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়। 

তবে আমি বলবো আত্নহত্যা কোনো সমাধানের পথ হতে পারে না । সমাধানের পথ হলো নিজেকে সমাজে টিকিয়ে রেখে সাফল্য অর্জন করা। যদি তাই হবে তাহলে আজ সারাবিশ্বে আত্নহত্যার সংখ্যা বাড়তো না। তবে কিছু রাষ্ট্রে সময়উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে নেপাল। তবুও কি সুসাইড ব্ন্ধ হয়েছে?  হয়নি। তাহলে অনেকেই প্রশ্ন তুলবে সেই উদ্যোগ কতটুকু যথার্থ? অবশ্যই যথার্থ কেননা -নীতিমালা আমরা সবাই শুনি কিন্তু মানিনা।

আত্নহত্যার ফলে আমাদের আগামী প্রজন্ম ধ্বংস  হয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই সফলতার গল্প লিখতে পারি কিন্তু অাদৌ আত্নহত্যার মূল কারন খোজার চেষ্টা করিনা। তবে এই আত্নহত্যা থেকে বাঁচার উপায় ও আছে বটে যেমন: প্রথমত আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে, বেকার সমস্যা দূর করার জন্য সরকারের  কাজ করতে হবে, ইভটিজিং বন্ধ করতে হবে।  সর্বোপরি, আমাদের সচেতন হতে হবে এবং ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে হবে। তবেই কেবল সমাজ থেকে এই আত্নহত্যা  সমস্যাটি কমে অাসবে বলে মনে করি। 

লেখক:
আব্দুর রাজ্জাক
শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.