শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের ভাবনা


শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের ভাবনা
শিক্ষকদের সম্মান প্রদর্শন এবং শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো প্রতিবছর ৫ই অক্টোবর দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।  বিশ্বের প্রায় ১০০ টির বেশি দেশ এই দিবসটি উদযাপিত হয়। বাংলাদেশেও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাতে এই দিবসটি পালন করা হয়। এই শিক্ষক দিবসে  শিক্ষকদের ভাবনাগুলো  তুলে ধরেছেন খন্দকার নাঈমা আক্তার নুন ।

কাজী এম. আনিছুল ইসলাম
কাজী এম. আনিছুল ইসলাম
প্রথমেই শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা। আমি মনে করি, সেই কারিগর হিসেবে শিক্ষকরা যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে সমাজে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে শিক্ষকরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে সরে এসেছে। এই শিক্ষক দিবসে আমার প্রত্যাশা শিক্ষকরা তাদের অবস্থান বুঝবে, কি করা উচিত বা তাদের দায়িত্ব কী, তাদের অধিকার কী, সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কী, মানুষের প্রতি মানুষের দায় কী ইত্যাদি বিষয়গুলো বুঝবে। সেইসাথে শুধু ছাত্র-ছাত্রী প্রতি দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব, অবস্থান এবং আদর্শ সম্পর্কে সচেতন হবে।
কাজী এম. আনিছুল ইসলাম
প্রভাষক, গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী
মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী
শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত মহত্ত্বকে সম্মান জানাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ৫  অক্টোবর পালিত হয় শিক্ষক দিবস। এই বছর শিক্ষক দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি বিষয়টি সত্যিই ব্যাথিত করে আমাকে। এই শিক্ষক দিবসে যারা আমার শিক্ষক, আমাকে যারা পড়িয়েছেন, যে শিক্ষকরা পৃথিবীতে নেই, যারা শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত তাদের সবার প্রতি আমার শ্রদ্ধা। জাতি গঠনের মুখ্য ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। সেই অর্থে শিক্ষকতা পেশাকে অন্যান্য পেশার তুলনায় মহৎ বলে বিবেচনা করা হয়। মূলত শিক্ষার্থীদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে সমাজকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলায় শিক্ষকদের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের নৈতিক  মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে পারাই আসলে শিক্ষক দিবসে একজন শিক্ষক হিসেবে জীবনের  স্বার্থকতা।      
মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন
মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন
আমার কাছে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ মাত্র। মনের প্রভাবটা যেন সবসময় থাকে। শিক্ষা কোনো পেশা নয়, আমার মতে এটি হলো ব্রত। শিক্ষা শুধু শিক্ষকের দায়িত্ব না, অনেকগুলো দায়িত্বের মধ্যে একটি দায়িত্ব। শিক্ষক হিসেবে একটি ব্রত নিয়ে এসেছি, একজন শিক্ষার্থীকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো আগামী দিনের জন্য। শিক্ষা যদি ব্রত হয় তবে শিক্ষকের দায়িত্ব একজন শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক স্বাস্থ্য, তার সামাজিক অবস্থান, আর্থিক দিক নিয়ে ভাবা অর্থাৎ নিরপেক্ষ জায়গা থেকে একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ভাবা। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখানো, জ্ঞান তৈরি করা, জ্ঞান বিতরণ করা, শিক্ষার্থীদের কাজের মূল্যায়ণ করা, শিক্ষার্থীদের হতাশার কথা না বলা, অন্যায় কাজে উৎসাহিত না করা অর্থাৎ একজন শিক্ষকের ব্রত হবে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক শিক্ষা দেওয়া।শিক্ষকরা যদি বাড়ি-গাড়ির স্বপ্ন না দেখে বা ধনী হওয়ার চিন্তা না করে তবে আমি বিশ্বাস করি ছাত্ররা বড় হয়ে হবে একেকটি প্রতিষ্ঠান। এই পেশা নিয়ে যদি কেউ সামনের দিকে যেতে চায়, তবে ব্রত নিয়ে যেতে হবে মনুষ্যত্ব বোধের শিক্ষা দিতে হবে।
মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন
সহকারী অধ্যাপক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক:
খন্দকার নাঈমা নুন
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.