আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার !


আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার !
আজ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। প্রতিবছর ১১ অক্টোবর তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের রাষ্ট্রসমূহ এ দিবসটি পালন করে। এই দিবসকে মেয়েদের দিনও বলা হয়। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে প্রথম এই দিবসটি পালন করা হয়েছিল। এই দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রসমূহ হলো শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা। এই দিবসটি সম্পর্কে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন চৈতি দেবনাথ দীপা


তনিমা তাবাসসুম
তনিমা তাবাসসুম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তনিমা তাবাসসুম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস সম্পর্কে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এভাবে:
কন্যা। এক আদুরে শব্দ। কন্যা শব্দটা শুনলে চোখে ভাসে খিলখিল করে হাসা ছোট্ট পরীর চেহারা কিংবা হঠাৎ করেই বড় হয়ে যাওয়া ঘরের লক্ষীটি এক অবয়ব।  তবে এখন কি আসলেই তাই? এখন কোনো ঘরে কন্যা জন্ম নিলে অনাবিল আনন্দে ভাসার আগেই, বাবা-মা এর কপালে চলে আসে চিন্তার রেখা। মেয়েকে নিরাপদ রাখতে পারবো তো? বাইরের শকুনের থাবা থেকে বাচাতে পারবো তো? শুরু হয় এক যুদ্ধ, এই বর্তমান একরোখা সমাজের মাঝে কন্যাকে নিরাপদে বড় করার জন্য। কিন্তু আমরা আসলে ভুলে যাই, এ কন্যাই হলো কারো না কারো বোন, মা, স্ত্রী। এই কন্যাদের কে যথাযথ সম্মান দেয়া কি এই সমাজে খুব কঠিন কিছু? নাকি আমরাই আমাদের মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছি। এই কন্যা দিবসে এই ভাবনার উত্তর খুজছি।  সবার জন্য কন্যা দিবস শুভ হোক। ভালো থাকুক প্রতিটি কন্যা।

চয়নিকা চাকমা
চয়নিকা চাকমা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চয়নিকা চাকমা বলেছেন:
আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথম এই দিবসটি পালিত হয়। পৃথিবী জুড়ে 
নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করাই আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।  বাংলাদেশে দিবসটির এবছরের প্রতিপাদ্য 'আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার'। কিন্তু আজ চারিদিকে বৈষম্য, অন্যায়, বাল্যবিবাহ, সেই সাথে ধর্ষণের মতো নিকৃষ্টতম অসঙ্গতিতে নারীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তাই আমাদের কন্যা শিশুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং তাদের জন্য একটি সমতার বিশ্ব গড়তে হবে। সেই সাথে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও সাম্যের পৃথিবী গঠনে সবাইকে সচেতন ও এগিয়ে আসতে হবে।

নাজিয়া আফরিন
নাজিয়া আফরিন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিয়া আফরিন এই দিবস সম্পর্কে বলেছেন:
"কন্যা ".... শব্দটি উচ্চারন এর সাথে সাথে ই আরেকটি শব্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনে আসে তা হল বৈষম্য।  এর কারন অবশ্য বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থানের পরিপেক্ষিতে কন্যা শিশুদের দূর্বল অবস্থান।  আজকের কন্যা শিশু আগামী দিনের সম্ভাবনাময় নারী কিন্তু কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্যপূর্ণ আচরনের কারনে অকালেই হারাচ্ছে অস্তিত্ব  ফলস্বরূপ প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীসমাজ থেকে যাচ্ছে উন্নতির আড়ালে।
বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়িত হলেও সমগ্র বাংলাদেশের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন ; বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে গেলেও গ্রামীন সমাজ কিংবা নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর কাছে এখনো কন্যা শিশুরা হেলার পাত্র।  এখনো কন্যাশিশু জন্ম দেয়ায় নির্যাতনের শিকার হয় বহু নারী।  প্রাধান্য পায় ছেলে শিশুরা অবহেলিত হয় কন্যারা। 
স্বাধীনতা যুদ্বের সময় অনেক মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। কিন্তু সেই স্বাধীনতা কি প্রকৃতপক্ষে নারী তথা কন্যারা পেয়েছে? উত্তর দেয়াটা খুবই সহজ। পায়নি।  কারন এখনো কন্যারা তাদের নিরাপত্তা পায়না ;তাদেরকে  সহ্য করতে হয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন।  খবরের কাগজ কিংবা টিভিতে প্রতিদিন ই ধর্ষণের সংবাদ -যা স্বাধীনদেশে কখনোই কাম্য নয়।  ধর্ষণ নামক কলুষিত অপরাধ অহরহ ঘটছে এদেশে; শিশু থেকে কন্যা, নারী থেকে বৃদ্ধা সকলে এই নিপীড়নের শিকার।  স্বাধীনদেশে মেয়েদের প্রতি এরূপ সহিংসতা কখনোই মেনে নেয়া যায়না।  তাই কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষ্যে, একজন মেয়ে হিসেবে; সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে কন্যা তথা মেয়েদের নিরাপত্তা কামনা করি; নিরাপদ রাষ্ট্রে কন্যারা তাদের স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারবে তাই হোক অঙ্গিকার।

লেখক:
চৈতি দেবনাথ দীপা 
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.