শিক্ষকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা


শিক্ষকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা
ছোটবেলার সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে আজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পুরোটা পথ যারা এগিয়ে দিয়েছেন তারা আমাদের শিক্ষক । তারাই আমাদের চিনতে শিখিয়েছে এই পৃথিবীর ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় । তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছি সুন্দর আগামীর পথে । অনেক শিক্ষকের সাথে কথা হয় না বহুদিন, অনেকের সাথে দেখা নেই, অনেকেই আবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে পরপারে । আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস । শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি ভাবছে? জানাচ্ছে মো.জাহিদ হাসান ।

মো.রিয়াজ হোসাইন
মো.রিয়াজ হোসাইন
আমরা যা শিখেছি যতটা জেনেছি তার অধিকাংশই শিখিয়েছেন আমাদের শিক্ষকরা । সফলতার পিছনে থাকে শিক্ষকদের অবদান এবং অক্লান্ত পরিশ্রম যার উপর ভর করে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আমরা । শুধু পুঁথিগত বিদ্যাই নয়, শিক্ষকদের কাছ থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা অর্জন করি তা জীবনের বাকি দিনগুলোতে বহন করে থাকি । আমরা স্কুলের গন্ডি পার করার পর কমবেশি সকলেই বারংবার ফিরে দেখি ফেলে আসা স্কুলের দিনগুলোর দিকে । ওই দিনগুলো বেশ ভালো ছিল । পরীক্ষার টেনশন, হাজার বকুনি আর চোখ রাঙানির বেড়াজাল দেওয়া ওই চনমনে অতীতকে আজ খুব ভালো সময় বলে মনে হয় । যে সময়টা আমাদের গড়ে তোলার কারিগর হিসেবে ছিলেন শিক্ষকরা । আজও তারা বিরামহীন শ্রম দিয়ে নিজেদের জ্ঞান উজাড় করে গড়ে তুলছেন একের পর এক ছাত্রছাত্রীর জীবন । পৃথিবীর সকল শিক্ষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই:
"তোমাদের কাছে পেয়েছি শিক্ষার আলো
তোমাদের কাছে শিখেছি মানবতার বাণী।"
মো.রিয়াজ হোসাইন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাফায়েতুল ইসলাম নিশান
সাফায়েতুল ইসলাম নিশান
শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত তারা আমাদেরকে জ্ঞান সরবরাহ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে আমাদের শিক্ষাদান করেন। তদুপরি, তারা আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও শিখান এবং আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। আমরা বলতে পারি, শিক্ষকরা আমাদের ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় এবং চমৎকার  রূপ প্রদান করেন।  শিক্ষকবিহীন একটি পৃথিবী অবশ্যই বিশৃঙ্খলতার সম্মুখীন হবে।  আমাদের জীবনে খুব কম লোক রয়েছে যারা আমাদের ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করেন এবং শিক্ষক অবশ্যই তাদের মধ্যে একজন।
সাফায়েতুল ইসলাম নিশান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নাজমুল তালুকদার
নাজমুল তালুকদার
শিক্ষক সমাজের প্রতিচ্ছবি । শিক্ষকদের দায়িত্ব সমাজের নিরক্ষরতা দূর করে সমাজে সাক্ষরতার হার বাড়ানো। আমি বিশ্বাস করি শিক্ষকগণ সমাজের সর্বাধিক দায়িত্বশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কারণ তাদের পেশাদার প্রচেষ্টা পৃথিবীর ভাগ্যকে প্রভাবিত করে। আমার স্কুল জীবনটা হোস্টেল এবং বাসায় কেটেছে। স্কুলে একজন প্রিয় শিক্ষক ছিলেন আলি আকবর স্যার। যখন হোস্টেলে থাকতাম তখন স্যার গাইড করেছেন। স্যারকে আমি আমার হাজারো সালাম জানাই। আমার কলেজ ছিলো ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজ। এখানেও আমার আরেকজন  আদর্শ স্যার ছিলেন অনিল স্যার । যার কথা না বললেই নয়। তিনি আমার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন। শিক্ষক তুমি মহান। তুমি জীবনের রাস্তা তৈরির কারিগর। তোমায় জানাই লাল সালাম।
নাজমুল তালুকদার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

মিনহাজুল ইসলাম
মিনহাজুল ইসলাম
কথায় বলে- 'শিক্ষাকাল দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত।' আর শিক্ষাকালে যিনি আমাদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন তিনিই আমাদের শিক্ষক। শিক্ষক শব্দটা মাথায় আসলেই মনের অজান্তেই একটা শ্রদ্ধা অনুভব হয়। শিক্ষকরাই মানুষ তথা জাতি গঠনের কারিগর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজ শিক্ষকরা তাদের যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছে না। তাই শিক্ষকের মর্যাদা শুধু শিক্ষক দিবসে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষকের যথাযথ মর্যাদা সবসময় কামনা করি। পরিশেষে বলতে চাই-
"শিক্ষক হলেন আলোর পথের
সত্য নির্ভীক যাত্রী
অনুসরণে পথ চলে
সকল ছাত্র-ছাত্রী"
শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকের সুস্থতা কামনা করছি।
মিনহাজুল ইসলাম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঈশিতা রায় রিতু
ঈশিতা রায় রিতু
শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলেন শিক্ষক যিনি জাতিগঠন  এবং উন্নয়ন সাধন করেন তার শিক্ষার্থীদের দ্বারা। মায়ের হাত ধরে বর্ণমালা শিখে যার হাতে সেই বর্ণমালা দিয়ে শব্দ আর বাক্য শেখা শুরু তিনিই হলেন শিক্ষক। আমাদের গোটা শিক্ষাজীবনেই তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম এবং তাদের জ্ঞানগর্ভ কথাগুলো চলার পথের পাথেয়। শিক্ষা অর্জনের এতগুলো বছরে অনেক শিক্ষকই আমাদের জীবনে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও আসবেন।তাদের প্রত্যেকেই আমাদের জীবন গড়ার কারিগর। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা আর সম্মান জানাই সমাজের বিবেক সকল শিক্ষকদের।
ঈশিতা রায় রিতু
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মোঃ মানিক হোসেন
মো.মানিক হোসেন
শিক্ষকতা শুধুই পেশা নয়, একটি মহান ব্রত। শিক্ষক শব্দটির সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা, সততা, আদর্শ, মূল্যবোধ শব্দগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষক-শিক্ষিকারা হলেন এই সমাজের প্রকৃত হিরো যাঁরা জ্ঞানের দরজা খুলে দিয়ে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে সমৃদ্ধ করে তোলেন। তাই শিক্ষক দিবসে আমি সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আমাদের স্বপ্নের পথে সিঁড়ির ভূমিকা পালন করেছেন এবং অদ্যাবধি আমাদের অনুপ্রাণিত করছেন। আমি শ্রদ্ধা জানাই দেশের সর্বস্তরের শিক্ষকগণের প্রতি । যারা অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও জাতির ভবিষ্যতের মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য এতোটা কষ্ট করছেন।
মোঃ মানিক হোসেন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিতম সরকার
প্রিতম সরকার
মা-বাবার পরেই যারা আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন তারাই হলেন শিক্ষক। সারাবছরই আমাদের জীবনে তাঁরা থাকেন প্রবলভাবে। কখনো ভুল ধরিয়ে দেন, কখনো নতুন জিনিস শিখিয়ে দেন, কখনো বকুনি দেন, কখনো আবার স্নেহের সঙ্গে নিজের কাছে টেনে নেন। শিক্ষক হলেন সেই নিঃস্বার্থ মানুষগুলো, যারা চায় তাদের শিক্ষার্থীরা তাদের থেকেও যোগ্যতায় সেরা হয়। শিক্ষক দিবসে সেই বিশেষ মানুষ, আমাদের পথপ্রদর্শকদের আরও একবার শ্রদ্ধা।
প্রিতম সরকার
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

মোঃ নাজমুল হুদা ফাহিম
মো.নাজমুল হুদা ফাহিম
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর জাতির মেরুদণ্ড গঠনের মহান কারিগর হলেন শিক্ষক। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দিকগুলো যার যত বেশি আয়ত্তে বিশ্ব নেতৃত্ব তার ততটাই নিয়ন্ত্রণে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত বিশ্বকে উত্তর উত্তর উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে যারা প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা, গবেষণা অব্যাহত রাখছে, তাদের পেছনে ছায়ার মত একদল অলিখিত যোদ্ধা অনুপ্রেরণা জোগিয়ে যাচ্ছেন, দিক নির্দেশনা প্রদান করছেন। হ্যা, আমি শিক্ষকদের কথাই বলছি। আজকে শিক্ষক না থাকলে কোনো গবেষক, ফার্মাসিস্ট, ডাক্তার, ইন্জ্ঞিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, ব্যাংকার, উকিল, ব্যারিস্টার কোনো পেশাজীবীর সৃষ্টি হতো না। আদিযুগের বর্বর এবং অসভ্য জাতিকে শিক্ষিত, সভ্য, সুশীল সমাজে রুপান্তরের প্রধান রুপকার সেই প্রাণপ্রিয় গুরুদের জানাই শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা। শিক্ষকতার এই মহান পেশা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের দ্বারাই গ্রহণীয়। ফলশ্রুতিতে জাতি গঠনে নিপুণতা বৃদ্ধি পাবে, সেই সাথে নেতৃত্বদানের সক্ষমতা অর্জন সহজতর হবে।
মোঃ নাজমুল হুদা ফাহিম 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রীতম কুন্ডু
প্রীতম কুন্ডু
বৃক্ষের শাখায় ফোটা নব পুস্পের সৌরভে চারিপাশ মুখোরিত হলে সৌরভ পিপাসু সমাজ পুস্প ও বৃক্ষ প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে। শুধু যে সঠিক সময়ে সঠিক উপাচারে বৃক্ষটিকে পুষ্ট করে তার সাধনাই  কালের অকৃতজ্ঞ বিধানে অগোচরে অবহেলিত হয়।  কিন্তু সেই মহানুভব অকৃত্রিম স্নেহে বৃক্ষটিকে চিরকাল পুষ্ট করে যায়। ভূমি ভেদ করেই যেমন বৃক্ষ পুস্প শোভিত হয় না ঠিক তেমনই সদ্য ভূমিস্ট  শিশু অকস্মাৎ তার সফলতা সৌরভে সমাজকে শোভিত করতে পারে না। 
মনো জগতের সহস্র স্বপ্ন শাখায় সফলতার সুগন্ধি পুস্প রচনায় যিনি তার সকল জ্ঞান পুষ্ট উপাচার অকৃপণ বিলিয়ে  চলেছেন,  আজ এই শুভ দিনে সেই পরম জ্ঞান গুরু শিক্ষকদের অন্তরের অন্ত স্থল থেকে জানাই অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও শরৎ শুভ্র ভালোবাসা। 
প্রীতম কুন্ডু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

গোলাম মোস্তফা রবিন
গোলাম মোস্তফা রবিন
বিশ্বে প্রতিটি বছরের অনেক দিনই বিভিন্ন দিবস পালিত হয়।এর মাঝেই একটি বিশেষ দিন ফিরে আসে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখা সেই সকল মহান শিক্ষকদের আত্মত্যাগ ও তাদের অবদান নিয়ে।সেই ৫ই অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয় সকল শিক্ষকদের সম্মানার্থে।মহান এই শিক্ষকদের প্রশংসা করার জন্যই একটি বিশেষ দিন আসলেও জাতির-দেশের এই সূর্য সন্তানরা দিন যত যাচ্ছে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পাচ্ছে না। যে মানুষগুলো তাদের নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সেই মহান পেশার মহান কারিগরদের অবদান স্বরূপ প্রাপ্য সম্মান-মর্যাদা সমুন্নত থাকুক এটাই বিশ্ব এই মহান দিবসে উপযুক্ত চাওয়া দেশ ও জাতির কাছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই জাতি গঠনের এই  সকল মহান কারিগরদের।
গোলাম মোস্তফা রবিন
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক:
মো.জাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
crjahid@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.