অরক্ষিত সীমান্ত অরক্ষিত বাংলাদেশ তৈরি করবে


অরক্ষিত সীমান্ত অরক্ষিত বাংলাদেশ তৈরি করবে
কিছু লিখতে গিয়ে বারেবারে থমকে যায় কলম, আসলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লিখা হয় না। কারণ লিখে কি হবে? কি হয়? কিছুই হয় না।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে যা অশনি সংকেত। এসব ঘটনা বেড়ে যাওয়ার একটাই কারণ, শাস্তি সুনিশ্চিত না হওয়া। এজন্য দায়ী বিচারবিভাগের বিলম্বতা। তার সাথে দায়ী কিছু মোটা ফিগার লোভী আইনজীবী ও বিচারপতি।

গত ৩১ জুলাই রাতে যখন আমাদের এলাকা টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুরে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকে হত্যা করা হয় তখন বাকিদের ন্যায় আমিও ঈদের ছুটিতে বাড়িতে ছিলাম। তখন অনেকের সাথে আলাপকালে বিচার বিভাগের প্রতি অনাস্থার দরুণ আশংকা করে বলেছিলাম, মেজরের মা এই দুনিয়ায় হয়তো সন্তান হত্যার বিচার না দেখেই ধুঁকে ধুঁকে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন।

এদেশের বিচার এতটাই বিলম্ব হয় যা বলে শেষ করা যায় না। অনেকগুলো মামলার ফাইলে বগলে পুরে কোর্টে বারান্দায় ক্রমাগত চক্কর মারতে থাকা বৃদ্ধদের ক'জনকে জিজ্ঞেস করাতে জানতে পারলাম, মামলার বয়স নাকি ১২, ২০, ৩০ বছর! অর্থাৎ বিচার পেতে পেতে বাদি ও বিবাদি উভয়পক্ষ পরপারে গমন করে।

প্রকৃতপক্ষে, আমার সাথে যারা মিশেছেন তাদের অনেকেই হয়তো জানেন আমি ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে বাস্তবিক মাঠ পর্যায়ে পরিবর্তনে বিশ্বাসী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যেখানে আমার জন্ম ও বসবাস অর্থাৎ টেকনাফ এলাকা, সেখানে এমন কোন সামাজিক সংগঠন কিংবা ইয়ূথ ফোরাম নাই যা সামাজিকভাবে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। চাইলেই এসব ফোরাম গঠন করতে পারতাম, কিন্তু টেকনাফে সে ধরনের পজিটিভ মনমানসিকতার লোক পাবো কোথায়? পেলেও কি সময় দেবে বা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে?

টেকনাফকে আজকে আপনারা কিভাবে চিনেন জানি না। হয়তো ইয়াবার ট্রানজিট হিসেবে তিরস্কারের সুরে আখ্যায়িত করেন।

বিগত দেড় দশক পূর্বে টেকনাফ ছিল সম্পূর্ণ দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে ভরপুর একটি অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আজকে হয়তো অনেকেই এ কথাটি বিশ্বাস করতে চাইবে না। কারণ অবস্থার এহেন দুষ্পরিবর্তন পুরোটাই গ্রাস করে ফেলেছে সেজন্য বিশ্বাস করাটা কঠিন। 

হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজের বিভিন্ন ব্যাচ থেকে ঝরে পড়েছে একমাত্র ইয়াবায় জড়িয়ে পড়ার কারণে, যা হয়তো কোনদিন কোনোপ্রকার জরিপে উল্লেখ হবে না। কিন্তু জীবনের জরিপ থেকে বাদ পড়বে না। এখন তাদেরকে বিদেশে নানা কর্মক্ষেত্রে পুনর্বাসনে প্রেরণ ছাড়া রেহাই নেই। ইয়াবা সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে জেলেও আছে দাগীসহ হাজারখানেক।

অরক্ষিত সীমান্ত অরক্ষিত বাংলাদেশ তৈরি করবে। সীমান্ত সড়কটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, হয়নি স্ট্রীটলাইট ও পর্যাপ্ত পরিমাণ সিসিক্যাম স্থাপন।

অন্ধকার যখন সবটা করে গ্রাস করে তখন আলোর পরিমাণ ক্ষীণ হলে সেই আলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় জোনাকি পোকার আলোর মতো, বাতিঘরের মতো নয়।

লেখক:
মাহবুব নেওয়াজ মুন্না
কক্সবাজার
mahbubnewazmunna@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.