বিজয় -তাসফীর ইসলাম (ইমরান)



বিজয়

আমি যুদ্ধ দেখিনি
তবে আমি, আমার মায়ের মুখে যুদ্ধ জয়ের সেই রক্তিম বিজয়ের কথা শুনেছি।
পড়েছি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ইতিহাসের বইগুলোতে;
বিজয়ের আন্দোলনটা শুরু হয়েছিল
ঐ ১৯৫২'র ভাষা আন্দোলন থেকে
কিছুতেই দাবিয়ে রাখতে পারছিলো না ঐ স্বৈরাচারী শাসন-দের।
শোষণ বঞ্চনার পড়ে
যেই দিলো বঙ্গবন্ধু বজ্রকন্ঠে ৭ই মার্চের অগ্নিঝড়া ভাষন,
একাত্তরে সাড়ে সাতকোটি বাঙালি হয়েছিল ঐক্যবদ্ধ,
২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়,
উম্মাতাল ৭১!
৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ।
শকুনের আঁচড়ে বোনের আঁচল হয়ে যায় রক্তাক্ত,
বর্ষাকালের ভরা নদীটি ছিলো-
ত্রিশলক্ষ শহীদের বুকের তাজা রক্তে টইটুম্বুর,
অবশেষে হানাদার পাকিস্তানবাহিনী করলো আত্মসমর্পণ।
বীর বাঙালিদের কাছে তারা করেছিল শির অবনত,
বেসুমার লাশের বুক ছিঁড়ে
বিজয়ের সবুজ মুকুল হানা দেয়,
সেদিন পৃথীবীর মানচিত্রে মনখুলে হেসেছিলো।
আমরা পেয়ে ছিলাম লাল-সবুজের পতাকা।
যাকে আমরা বিজয় বলি।

আমি যুদ্ধ দেখিনি,
আমি প্রতিনিয়ত বিজয় দেখেছি।
আমি বিজয় দেখেছি আমার মায়ের আঁচলে,
তার বোবা হাসিতে!
আমি বিজয় দেখেছি প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে,
আমি বিজয় দেখেছি দোয়েলপাখির কলতানিতে,
বিলের ঐ লাল শাপলায়;
আমি বিজয় দেখেছি নদীর কল্লোল তোলা টেউয়ে,
আমি বিজয় দেখেছি দূরান্ত ট্রেনে,
আমি বিজয় দেখেছি মুক্তির আনন্দে,
আমি বিজয় দেখেছি কৃষকের লাঙ্গলে,
আমি বিজয় দেখেছি ছেলে হারা বরকতের মায়ের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে,
আমি বিজয় দেখেছি বাংলার ধূলোতে,
আমি বিজয় দেখেছি ৭ই মার্চের সেই অগ্নিঝড়া ভাষনে,

বিজয়...বিজয়...বিজয়
- সে তো আমার ভাইয়ের রক্তে মাখানো,
আমার বোনের মৃত্যুতে কেনা,
আমার স্বজন হারিয়ে পাওয়া - আমার জীবনের একমাত্র স্বজন,
স্বাধীন দেশের প্রতীক লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা।

শপথ করছি -
আমি এ বিজয় রাখবো অর্নিবাণ,
যে পতাকা এঁকেছিলাম নিপুণ রক্তে,
সেই বিজয়ের পতাকার মান রাখবো
চির অম্লান।

লিখেছেন:
তাসফীর ইসলাম ইমরান
তাসফীর ইসলাম (ইমরান)
শিক্ষার্থী,সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং,বাসাই imran187619@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.