কাজী আব্দুল ওদুদ মহান চিন্তাবিদ মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত সংস্কৃতির পথিকৃৎ


কাজী আব্দুল ওদুদ মহান চিন্তাবিদ মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত সংস্কৃতির পথিকৃৎ

প্রারম্ভিকাঃ
বাংলা সাহিত্য আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র বাংলাদেশের গর্ব ও অলঙ্কার। দল মত জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব , নয়নের মণি, প্রাণের স্পন্দন। বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের মন ও মননে পরম অলঙ্কার ,বিচক্ষণ মুক্ত বুদ্ধিদীপ্ত সমাজ সংস্কারক আলোকজ্জল পদ্মফুল সাদৃশ্য প্রখ্যাত নায়ক কাজী আবদুল ওদুদ। সাধারণের মাঝে অসাধারণ এ ব্যক্তিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলার দ্বিতীয় জাগরণের অগ্রদূত হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। অসাধারণ এ অবিভক্ত ব্যক্তিত্ব আলোর মশাল হাতে নিয়ে ২৬ এপ্রিল ১৮৯৪ - ১৯ মে মতান্তরে ১০ এপ্রিল ১৯৭০ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার বর্তমান রাজবাড়ী পাংশায় একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার জন্ম মাতুলালয় অবিভক্ত নদীয়া জেলার জগন্নাথপুরে, যেটি এখন কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত। যে কারণে তার জন্মসূত্রের মতপার্থক্য দেখা যায়। ওদুদের পিতামহ কাজি ইয়াসিন।যার সান্নিধ্যে বুদ্ধিও তীক্ষ্ণতা সঞ্চারিত করে।জীবনকে পুস্পালোক সাদৃশ্য করে তুলতে আরো সহজতর হয়।তাইতো নিজের ভাষায় বলেছিলেন ,আমার পিতামহী ছিলেন অসাধারণ পার্সী জানা মৌলভীর মেয়ে, কিন্তু ধর্মভীরু যত-বুদ্ধিমতী, কর্মকুশলা ও কা-জ্ঞানসম্পন্না তার চাইতে অনেক বেশি। আমাদের পরিবারে বুদ্ধিও তীক্ষ্ণতা সঞ্চারিত হয়েছে তাঁর শোনিত থেকে- এমনই মনে উদয় হয়।

তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হয় শৈশবের একটু বয়সে ঘাটিয়ে।পিত্রালয় অক্ষরজ্ঞান লাভের পর নয় বছর বয়সে মাতুতালয়ের কাছে জগন্নাথপুর এম .এ স্কুলে ভর্তি হোন তিনি।নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। নরসিংদীর শাটিরপাড়া হাই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ১৯০৬ থেকে ১৯০৮ এই তিনবছর পড়েন। ১৯১৩ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন কাজি আব্দুল অদুদ। ১৯১৫ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আইএ পাস এবং ওই কলেজ থেকে ১৯১৭ সালে বি.এ এবং ১৯১৯ সালে এম .এ পাস করেন । শিক্ষা জীবনে শৈশব থেকে সকল শ্রেণীতে তিনি পরম কীর্তিত্ব বহন করেন। 

কর্ম ও মননশীল সাহিত্যজীবন:
প্রতিভাদীপ্ত ও প্রতিবাদী কাজী আবদুল ওদুদ এক বর্ণাঢ্য কর্ম ও সাহিত্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। গবেষকদের মতে তার সাহিত্যজীবনকে তিন ভাগে ভাগ করা  যায়-
প্রথমত-কলকাতার জীবন যেখানে তিনি ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সাল নাগাদ সৃষ্টিশীল সাহিত্য রচনা করেন।
দ্বিতীয়ত -ঢাকার জীবন ১৯২০ থেকে ১৯৪০  এ সময়কাল  সমাজিক চৈতন্য ভাবনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক
সাহিত্য চর্চা ও মননশীল গদ্য রচনা করেন।
তৃতীয়ত- কলকাতা-রাজশাহী- কলকাতার জীবন ১৯৪০ থেকে ১৯৭০ সময়কাল উদার মুক্ত মনা ব্যক্তিত্ব ও আদর্শকেন্দ্রিক সাহিত্য রচনা করেন।

মানবতা প্রেমী কাজী আব্দুল ওদুদের জীবন ও সাহিত্যের মূলে ছিল দেশ প্রেম ও সমাজ সংস্কারক মূলক চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তার জীবন কর্মে লেশ মাত্র ছিলো না একঘেয়েমি মনোভাব এবং নিছক সাহিত্যে রচনা অথবা এর মধ্য দিয়ে আত্ম প্রতিষ্ঠা বা আত্মতুষ্টি অর্জন করাও যে তার কাম্য ছিল এর লেশ মাত্র চিহ্ন কোথাও পাওয়া যাবে না।

আলোর মতো করে নিজকে বিলিয়ে দেয়াই যেন তার জীবনের লক্ষ্য ছিল । যে সমস্ত গুণের অধিকারী হলে মানুষের হৃদয় জয় করা যায় , লাভ করা সম্ভব অমরত্ব সে সব প্রতিচ্ছবি তার জীবন কর্ম ও চিন্তা চেতনায় পদ্মফুলের ন্যায় ফুটে ওঠে। তার লক্ষ্য ছিল ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মুক্তিচিন্তা, জ্ঞান ও চিন্তন শক্তি ছড়িয়ে দেবার জন্য তিনি হাতে তুলে নেন ধারালো  কলম এবং জাগ্রত সদিচ্ছা।

নিরপেক্ষ ও বিশ্লেষণী দৃষ্টি দিয়ে মুসলমান সহ বাঙালি সাহিত্যিকদের পিছিয়ে পড়ার কারণ তিনি সর্বান্তকরণে খুঁজে বের করার জন্য  আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন যা ভূয়সী প্রশংসার দাবী রাখে। ১৯১৯ সালে এম.এ পাস করার পরই এ মহান পুরুষ কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯২০ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ছাত্রজীবনেই তার গল্পগ্রন্থ, মীর পরিবার, উপন্যাস, নদীবক্ষে প্রকাশিত হয়ে যা রবীন্দ্রনাথ ,শরৎচন্দ্র ও শশাঙ্কমোহন সেনের প্রশংসলাভ করেন। এ প্রসঙ্গে জীবন কথায় তিনি লেখেন-১৩২৭ সালে ১৯২০ আমি ঢাকায় যাই বাংলার লেকচারার হয়ে দীনেশ বাবুর সুপারিশে। আমার নদীবক্ষে ও মীর পরিবার আর মোসলেম ভারতে প্রকাশিত “সাহিত্যিককের সাধনা’ প্রবন্ধ দেখেও শরৎবাবু রবীন্দ্রনাথ, শশাঙ্কমোহন সেন, প্রমথ চৌধুরীর অনুকূল মত জেনে তিনি সুপারিশ করেন। তখনও তদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয়নি।

১৩২৭-এর বৈশাখে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় বের হয় মোসলেম ভারত পত্রিকা; এর প্রথম সংখ্যাতেই প্রকাশিত হয় কাজি আব্দুল ওদুদ বিরচিত " সাহিত্যিকের সাধনা" শীর্ষক প্রবন্ধটি। প্রমথ চৌধুরী সবুজপত্রে প্রবন্ধটির প্রশংসা করে লেখেন:
সাহিত্য বলতে কি বোঝায়, সে বিষয়ে মোসলেম ভারতে একটি সুন্দর প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। কাজী আবদুল ওদুদের সাহিত্যিকের সাধনার মহাগুণ এই যে, উক্ত প্রবন্ধে বিষয়টিকে নানা দিক থেকে দেখা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে বিচার করাও হয়েছে। এহেন সুচিন্তিত প্রবন্ধ বাঙলা মাসিকপত্রে নিত্য চোখে পড়ে না। সাহিত্য যারা ভালবাসেন, এ লেখাটি তাদের পড়তে অনুরোধ করি। কলমের চেয়ে ধারালো অস্ত্র দ্বিতীয় আর পৃথিবীতে নেই। কাজি আব্দুল ওদুদ দেখিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন তার সঠিক সূক্ষ্ম ও মুক্ত মনের ব্যবহারের দ্বারা।

তিনি কলেজে যোগদানের এক বছরের মধ্যেই তার কর্ম দক্ষতায় সুনাম অর্জন করে অধ্যাপক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৪০ পর্যন্ত টানা বিশ বছর তিনি ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৪০ সালের মে মাসে টেক্সট বুক কমিটির সেক্রেটারির পদে নিয়োগ পেয়ে কলকাতায় যান। ১৯৪২ সালে অফিসটি রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হলে এখানে থাকেন ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। পরে অফিসটি আবার কলকাতায় স্থানান্তরিত হলে তিনিও কলকাতায় যান। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর ১৫ আগস্ট ঐ পদের সাথে রেজিস্টার অব পাবলিকেশনের পদ যুক্ত করা হলে তিনি সে পদে নিয়োগ পান। ১৯৫১ সালের জুলাই মাসে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সূচিত হয় তার সাহিত্য জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় অর্থাৎ ঢাকার জীবন তার জীবনের এক উজ্জ্বল পর্যাবৃত্ত । যেমময় তিনি মনের মাধুরী দিয়ে ঢেলে সাজান নানা সাহিত্যকর্ম। ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের মতো একটি মুক্তবুদ্ধির আন্দোলনের সাথে জড়িত হয়েছিলেন। এ সময় শিখায় তার সাহিত্য সমস্যা, বাঙলার জাগরণ, বাংলা সাহিত্যের চর্চা, গ্যেটে শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগুলো প্রকাশিত হয় । এ সময় তিনি একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে তুলেছিলেন। তার নাজিমুদ্দিন রোডের ভাড়া বাড়ি জোহরা মঞ্জিলে প্রায়ই সাহিত্যের মজলিস বসতো। সেখানে উল্লেখ্য যোগ্য অধ্যক্ষ সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র, ড. খাস্তগীর, ড. কালিকারঞ্জন কানুনগো, সাহিত্যিক মোহিতলাল মজুমদার, চারু বন্দ্যোপাধ্যায়, মাহবুব-উল-আলম, মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তার সাক্ষাত ও আলাপ হতো। ১৩৩৩ সালে তার প্রবন্ধ সংকলন নব পর্যায় বের হয় যেটি পড়ে রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করেছিলেন এতে নবপর্যায় গ্রন্থে মনের জোর, বুদ্ধির জোর, কলমের জোর একসঙ্গে মিশেছে। গোঁড়ামির নিবিড় বিভীষিকার ভিতর দিয়ে কুঠার হাতে তুমি পথ কাটতে বেরিয়েছ, তোমাকে ধন্য’।

তার জীবনের তৃতীয় অধ্যায় ১৯৪০ এর মাঝামাঝি সময়ে যখন বাংলা সরকারের প্রাদেশিক টেক্সট বুক কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব নিয়ে কলকাতায় যান। বাকি জীবন তিনি অবশ্য কলকাতাতেই ছিলেন। শুধু ১৯৪২-৪৫ অফিস স্থানান্তরের কারণে রাজশাহীতে ছিলেন। সে সময় রাজশাহী কলেজের সহ-অধ্যক্ষ ও ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক ড. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্তের সঙ্গে তার বেশ হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। রাজশাহীতেই তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ কবি গুরু গ্যেটের অনেকাংশ রচনা করেন। 

১৯৪৫ সালে আন্তর্জাতিক চ.ঊ.ঘ কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে তিনি অল ইন্ডিয়া রাইটার্স কনফারেন্সে ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্য প্রবন্ধ রচনা করেন যা যা প্রেসিডেন্সী কলেজের ইংরেজীর অধ্যাপক তারকনাথ সেন গড়ফবৎহ ইধহমধষর খরঃবৎধঃঁৎব নামে অনুবাদ করেন। ১৯৫০ সালের ওহফরধহ চযরষড়ংড়ঢ়যরপধষ ঈড়হমৎবংং উপলক্ষে লেখেন ঋঁহফধসবহঃধষং ড়ভ ওংষধস.
১৯৫১ সালে অবসর গ্রহণের পর কলকাতার তারক দত্ত রোডে বাড়ি করে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু ।সাতচল্লিশে দেশভাগের পর নানা সুযোগ এবং সম্মানজনক পদ লাভের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বে¡ও তিনি আর ঢাকায় ফেরনেনি। জানা যায় সে সময় পাকিস্তানের সে সময় পাকিস্তানের মন্ত্রী ফজলুর রহমান এস এন কিউ জুলফিকার আলীকে তাকে ঢাকায় আসার অনুরোধ জানাতে বলেছিলেন। তিনি ঢাকায় আসলে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হবে এমনটিও জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদর্শগত কারণে তিনি ঢাকায় আর আসেননি। এ সম্পর্কে আবুল ফজল তার একটি চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন-
আমার ইচ্ছা হযরত মোহাম্মদ (দঃ). গ্যেটে আর রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে তিনটি বই লেখা এ সবের উপকরণ এখানে যত সহজলভ্য হবে, ঢাকায় তা হওয়ার নয় তাই আমি এখানে রয়ে গেলাম’।

মুক্ত মনে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ও চর্চায় পত্রপত্রিকার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে তার ভেতরে লালিত ছিল। তাইতো বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশ করে সমাজকে জাগ্রত করতে ব্রত হন কলম ও কাগজে ,আলো ও আঁধারের পাতায়। এজন্য গণমাধ্যমের  বেশ কতগুলো মাধ্যমে তার লেখানী  প্রকাশের ভুমিকা ছিল অগ্রগণ্য। মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র অভিযান এবং শিখা প্রকাশের ক্ষেত্রে তার প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল যদিও সম্পাদক হিসেবে তার নাম ছাপা হয়নি।জীবন থেমে থাকার নাম নয় তাই তিনি ও থেমে থাকেননি।

১৩৬১ সালের বৈশাখে তার সম্পাদনায় বের হয় সঙ্কল্প নামের মাসিকপত্র। এটি প্রকাশিত হতো ৮-বি তারক দত্ত রোড কলিকাতা-১৯ থেকে ।এই মাসিকপত্র প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রথম সংখ্যায় সঙ্কল্প কথা’য় বলা হয়।সংকল্প প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হলো ।যথা সম্ভব পক্ষপাত ও বিদ্বেষবর্জিত সত্যের প্রতি শ্রদ্ধান্বিত সাহিত্যিক ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সংকল্প হয়ে উঠুক এই আমাদের স্বাদ।... দেশ স্বাধীন হবার প্রায় ছয় বছর পরে সংকল্পের আত্মপ্রকাশ । তবু তার সত্যিকার পরিচয় এই যে সে স্বাধীনতার সন্ততি- স্বাধীনতার কোলে তার বসবাস , স্বাধীনতার মুখ চেয়ে তার হাসি কান্না আনন্দ উল্লাস ,এই স্বাধীনতাই তার স্বপ্ন আশা প্রেম ভালোবাসা ।

১৩৭২ সালের বৈশাখে প্রকাশ হয় তরুণপত্র শীর্ষক পত্রিকা। যেখানে তিনটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এরপর দিল্লী থেকে তরুণপত্র প্রকাশের অনুমতি না পাওয়ায় সংকল্প নামেই প্রকাশের অনুমতি পায়। ১৩৭২ সালের মাঘ মাসে কাজী আবদুল ওদুদ আবার সংকল্প পত্রিকা প্রকাশ করেন। এবং সেটি টি ছিল ঈদ সংকলন। সম্পাদকীয় কলামে কাজি আব্দুল ওদুদের সঙ্গে রবীউদ্দিন আহমদ ও নারায়ণ চৌধুরীর নাম ছাপা হয়। সম্পাদকীয়তে বলা হয় সংকল্প ভুলবে না কালের যে দাবি সর্বক্ষেত্রে চাই আরও সচেতনতা , লক্ষ্যের আরও স্থিরতা , আর সিদ্ধি কি লাভ হলো সে সমন্ধে আরও সতর্ক ও মুক্ত সজাগ সচেতন সুদৃষ্টি।

কাজী আব্দুল ওদুদ মহান চিন্তাবিদ মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত সংস্কৃতির পথিকৃৎ শুধুই মুখে নয় বরং ঐশ্বরিক প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান ও হেকাতের জ্বলন্ত বাস্তবতা তিনি তার জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে পরতে পরতে রেখে গেছেন। যার গৌরব ও সৌরভ ম্লান হবার নয় বরং যুগে যুগে জাতিতে জাতিতে আলোকিত মানুষ হতে জীবন সাফল্যের দিক দর্শন খুঁজে পাবে। এমন মহান পুরুষকে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম নসিব করুন। বাংলার ঘরে ঘরে তার মতো আব্দুল ওদুদ জন্ম লাভ করুক মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে হৃদয় খুলে সে মিনতি ও আরতি করছি। আমিন।

লেখক:
মুহা. কবির হোসেন 
ঝালকাঠি সদর
ঝালকাঠি

No comments

Powered by Blogger.