করোনাকালে হুমকিতে শিশুর মানসিক অবস্থা


করোনাকালে হুমকিতে শিশুর মানসিক অবস্থা

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এবছরের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী শব্দটিই 'কোভিড-১৯'।পৃথিবীর প্রাণচাঞ্চল্যতাকে স্তব্দ করে রেখেছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস।করোনাকালীন সময়ে অন্যান্য বয়সের মানুষ থেকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে শিশুদের উপর। শিশুরা করোনা ভাইরাসে অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত হলেও এ সময়ে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে।

শান্ত, ভদ্র, বাকপটু ১০ বছরের নিয়ন বেশ কয়েক মাস হয় পাল্টে গেছে । করোনাকালীন এ দীর্ঘসময় নিয়ন টানা ঘরবন্দী থাকায় বন্ধুবান্ধব ছাড়া নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। তার কর্মজীবী বাবা-মা তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না বলেই ধীরে ধীরে সে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কেউ কিছু বল্লেই সে চেঁচামেচি করছে।এই দীর্ঘ বন্দী জিবন তাকে মেজাজী করে তুলেছে । দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় সে একদিকে যেমন শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে ও অন্যদিকে সে মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

ঢাকার শিশু হাসপাতালের ডেভেলপমেন্টাল পিডিয়াট্রিশিয়ান ডা.রিয়াজ মোবারক বলেছেন "দীর্ঘদিনের আবদ্ধ অবস্থা শিশুর সকল ধরনের বিকাশ বাধাগ্রস্থ করছে।একটা শিশু যখন হাঁটতে শেখে,কথা বলতে,দৌড়াতে শেখে,ছবি আঁকে,নাচে এইসব জিনিস শিশুর একটা বিকাশের অংশ।শিশুর সকল ধরনের বিকাশ, বুদ্ধির বিকাশ এই পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।" এই করোনাকালে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি মানসিকও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্যা চিল্ড্রেন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে - তাদের একটি জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৪ শতাংশ শিশু জানিয়েছে যে তাদের পরিবার কঠিন খাদ্য সংকটে রয়েছে।যদিও খুব ছোট পরিসরে জরিপটি করা হয়েছে,তবে এর বাস্তবতা ইতোমধ্যেই সব লোকালয়ে প্রকাশ পেয়েছে। 

অন্যদিকে দীর্ঘসময় ধরে টিভি, মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহারে শিশুর শারীরিক ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ওবেসিটি(স্থূলকায় শিশু)তে রূপ নিচ্ছে। শিশুর ওবেসিটির স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে অনেক জটিল রোগ হয়ে থাকে যা এখন পরিলক্ষিত না হলেও পরবর্তীতে তার প্রভাব পড়তে পারে।

করোনার এসময়ে অনেক পরিবারই হয়তো অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছে।কিন্তু কোন অবস্থায়ই শিশুদের সামনে অন্য সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না।অন্যথায় এর বিরূপ প্রভাব শিশুর উপর পড়তে পারে।তাই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের বিশেষ করে বাবা মায়েদের তার শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে।

লেখক:
সানিয়া আক্তার নূর
শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.