কক্সবাজারের ঝর্ণা, পাহাড়ি স্পটগুলো সাজেক ভ্যালির ন্যায় সাজানো হোক



স্রষ্টার অপরূপ দান হচ্ছে এ পৃথিবীর সবকিছু। স্রষ্টা তার নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছেন এই ধরা। তাইতো এত অপরূপ ও বিচিত্র। অপরূপ এই প্রকৃতির সাথে সবসময় মানুষের সখ্যতা গড়ে উঠে। মানুষ যখন প্রকৃতিকে আপন করে নেয় তখন সবকিছু সতেজ মনে হয়। পর্যটক হিসেবে প্রকৃতি ভ্রমণ মানুষকে অদেখা দৃশ্য দেখাতে ও জানতে সাহায্য করে।

পর্যটন হচ্ছে এটি এমন একটি শিল্প যা মানুষের ভ্রমণের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসায়িক দাঁড় উন্মোচন করে চলছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। হোটেল এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসা থেকে শুরু করে ট্রাভেল সংস্থাগুলিসহ আরও অনেক কিছুই এখন এই শিল্পের সাথে জড়িত। পর্যটনকে বলা হয় একটি বিস্তীর্ণ, প্রাণবন্ত, গতিশীল এবং বৃদ্ধি ভিত্তিক শিল্প। একবিংশ শতাব্দীতে, বহু-মাত্রিক কারণগুলি থেকে পর্যটনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেননা সরকারি সংস্থার শীর্ষস্থান থেকে শুরু করে বেসরকারি ব্যবসায়িক খাতগুলিতে পর্যটন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উন্নত দেশগুলির, বিশেষ করে বললে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করে দিচ্ছে। সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্যটন উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুফল বয়ে নিয়ে আসছে যার মাধ্যমে একটি দেশ খুব ভালোভাবেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করছে।

২০১৯ সালের প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুসারে, বৈশ্বিক জিডিপিতে ভ্রমণ ও পর্যটনটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান ছিল ৮.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা ছিলো গ্লোবাল জিডিপির ১০.৩%) ২০১৯ সালে। পাশাপাশি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলো ৩৩০ মিলিয়ন যা কিনা ছিলো প্রত্যেক ১০ টি নতুন কর্মসংস্থানের ১টি। গবেষণায় উঠে এসেছে ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন করে ২.১% হারে ১৫,৪০,৬০,০০০ নতুন কাজের সৃষ্টি করবে পর্যটন। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশে এ মুহূর্তে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলা কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন স্পট। যার আয়তন ১২০ কিলোমিটার। এর বিস্তৃতি শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। কক্সবাজারের এই বিস্তীর্ণ বেলাভূমি জুড়ে গড়ে উঠেছে শতশত হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও আর্কষণী পর্যটন স্পট। যার মধ্যে কলাতলীর মোড়, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট, ইনানী সৈকত, শামলাপুর সৈকত, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক জিরো পয়েন্ট, সেন্টমার্টিনদ্বীপ, শাহপরীরদ্বীপ উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কক্সবাজারের সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন স্পটগুলো আশানুরূপ পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি নয়। এখনো যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলতে দেখা যায়। ইদানীং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নে তার কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অপরদিকে সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল।
সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা , দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ি থেকে।

সাজেকে সারাবছরই যাওয়া যায়। আর সাজেকে পাহাড়ধ্বস বা, রাস্তা ধ্বস এরকম কোন ঝুঁকি নেই। তাই নিশ্চিতেই সাজেক যেতে পারেন। বর্ষায় সাজেকের রূপ যেনো শতগুণে বেড়ে যায়। পাহাড়ের কোলে মেঘের খেলা চলে রাত ভর। সারাক্ষণই পাহাড় আর মেঘের মিতালি। আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই, ষোলকলা পূর্ণ। হাজারফুট উঁচুতে উঠে যখন মেঘের মাঝে হারিয়ে যাবেন মনে হবে অন্য এক পৃথিবী। সাজেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের কোন তুলনা হয় না। হারিয়ে যাবেন অন্য রকম এক প্রশান্তিতে।

সাজেক ভ্যালির সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে সর্বদা নিখুঁত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পর্যটন স্পট এটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার বিনিময়ে আজকের এই রূপময় সাজেক ভ্যালি। পরিচ্ছন্নতা ও নান্দনিকতার দরুন সাজেক ভ্যালিতে দিনদিন পর্যটক বেড়ে গেছে।

কক্সবাজারে পর্যটক আসে শুধুমাত্র প্রকৃতি উপভোগ করতে, কংক্রিটের অট্টালিকায় থাকতে নয়। এজন্য দরকার কক্সবাজারের সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন স্পটগুলোর পাশাপাশি পাহাড়ি ঝর্ণা ও পর্যটন স্পটগুলোর দিকে সুনজর দেয়া। কক্সবাজারের পাহাড়ি ঝর্ণা ও পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে রামুর হিমছড়ি ঝর্ণা, টেকনাফের নোয়াখালীয়াপাড়া পাহাড়ি ঝর্ণা, চকরিয়ার মানিকপুর, হিমছড়ি ঝর্ণা, হোয়াইক্যং কুদুং গুহা ঝর্ণা, টেকনাফ ন্যাচার পার্ক উল্লেখযোগ্য। পরিবেশ সংস্থাগুলোর সহযোগিতায়
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পর্যটকসমৃদ্ধ সাজেক ভ্যালির ন্যায় টেকসই পরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজারের এই সুরভিত পাহাড়ি ঝর্ণা ও পর্যটন স্পটগুলো সাজালে দ্বিগুণ পর্যটক ও আয় বাড়বে।

মাহবুব নেওয়াজ মুন্না
তরুণ লেখক
Twitter: theMahbubNewaz
mahbubnewazmunna@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.