আধুনিকতার ছোঁয়ায় এগিয়ে যাক বাংলাদেশ



ডিজিটাল বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদী আধুনিক কর্মপরিকল্পনা। ভিশন ২০২১ কে লক্ষ্য করে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ভিশন ২০২১ বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের ২০০৮ সালের নির্বাচন কালীন সময় হতে দীর্ঘমেয়াদী এক নির্বাচনী ইশতেহার। যার মূল উদ্দেশ্য আধুনিক, বিজ্ঞান তথা প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বির্ণিমান করা৷ যাতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ পাড়ি জমাতে পারে অসীম দূরে। যার পথ পরিক্রমায় প্রতিবছর ১২ই ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত হয়ে অাসছে। এদিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতর এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচি থাকে।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ কি? টাকা, পয়সা বা ধন-সম্পত্তি! নাহ, একদম ভুল ভাবছেন। এখনকার সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তথ্য। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বদলে দিয়েছে পৃথিবীর বাস্তব রূপ। ইংরেজি প্রবাদ বাক্যতে বলা হয় -"It does today What was supposed to be quite impossible yesterday " যার অর্থ কাল যেটি কল্পনা ছিল অাজ সেটি বাস্তব। সকালে ঘুম থেকে ওঠা কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগ অব্দি প্রযুক্তির ছোঁয়া ব্যাতীত জীবনযাপন করা এখন খুব কঠিন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, বিনোদন সর্বদাই এখন প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত। বাংলাদেশ কি তাঁর ব্যাতীক্রম? একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন, উত্তর বলবেন কখনোই না। হতে পারে কোনক্ষেত্রে নানান কঠিন বাস্তবতায় হয়তো ক্ষানিকটা পিছিয়ে অাছে তবে একবারে সূচনা হয় নি এমন প্রযুক্তি কর্ম বা সেবা নেই বললেই চলে। নিজেদের সক্ষমতার প্রতীক বা নিদর্শন রয়েছে অামাদের বহু। উদাহরণ স্বরূপ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -১ এর কথা বলা যায়। যা কিনা দেশের সর্বপ্রথম স্যাটেলাইট। বর্তমানে দেশের সকল টিভি চ্যানেল এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সব বিষয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। নিজস্ব সম্পদ বা ব্যবস্থাপনা হওয়াতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বা গোপন তথ্যাদি থাকে নিরাপেদ। বাংলাদেশ দূর্যোগপ্রবন দেশ তাই বর্তমান সরকার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ডিজিটাল ডাটা রিকোভারি সিস্টেম। স্বল্প পরিসরে যা শুধুমাত্র সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে এখন। ভবিষ্যতে সব ধরনের নাগরিককে এ সেবার অাওতায় অানা হবে। বিগত ২/৩ বছর সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে 4G ইন্টারনেট সেবা। ফলে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও এখন পাওয়া যায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি, পুরো দেশকে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের অাওতায় অানার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। ডিজিটালাইজড সিস্টেমের সবচেয়ে সুযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে করোনাকালীন সময় বা পৃথিবীর অসুস্থতায়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান বা কর্ম সম্পাদনে পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়েছে অাধুনিক পদ্বতি বা ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম। এমনকি, সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরী ভাবে চালিয়ে যেতে পারছে শিক্ষাব্যবস্থা। আসা যাক ব্যাকিং সেক্টরের কথায় যেখানে দীর্ঘ লাইন ধরা এখন পুরনো বা অতীত সংস্কৃতির অংশে পরিনত হয়েছে বহু আগেই। রয়েছে একাধিক মোবাইল ব্যাকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। বিকাশ, রকেট বা রাষ্ট্রায়াত্ত "নগদ "যার অন্যতম উদাহরণ। সর্বোপরি, করোনাকালীন সময়ে একমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়নের জন্যই সম্ভব হয়েছে বিকল্প পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। বর্তমানের সরকারের কথা কাজের মিল বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল বলেন কিংবা জনসেবা বলেন প্রকৃতপক্ষে লাঘব হয়েছে সাধারণ মানুষের কষ্টের এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধুমাত্র ডিজিটাল সিস্টেম করা নয় বরং অনুন্নত সর্বক্ষেত্রেই নজর বিদ্যমান বর্তমান সরকারের। রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত সকল ক্ষেত্রেই বিগত এক যুগে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া৷ যার সুযোগ্য বা আস্থাশীল নেতৃত্বে সম্পাদন হয়েছে এমন বাস্তবধর্মী কর্ম তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী৷ ৭৫ এ আলো আঁধার নেমে না আসলে হয়তো বহু আগেই এমন দৃশ্যপটের মুখোমুখি হতো লড়াকু বাঙ্গালী জাতি। 
নিঃসন্দেহে ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের জন্য সময়োপযোগী এক পদক্ষেপ। যার ফলাফল আমরা ভোগ করছি ২৪ ঘন্টা ৭ দিন বা সব সময়৷ এরূপ কর্মকাণ্ডকে দিবসের মতো একটি মাত্র দিনে মূল্যায়ন কখনোই সম্ভব নয়৷ কেননা, এর পরিধি বিস্তৃত সর্বত্র। এগিয়ে যাক প্রিয় মাতৃভূমি এটিই আমাদের চির প্রত্যাশা। 

লেখক:
অনন্য প্রতীক রাউত 
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

No comments

Powered by Blogger.